লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

আগের সংবাদ

২৪ স্ত্রী রাখার দায়ে গৃহবন্দির সাজা!

পরের সংবাদ

রাইফার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা প্রয়োজন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩, ২০১৮ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৮, ৭:২৪ অপরাহ্ণ

সাঈদ চৌধুরী

সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, গাজীপুর

শিশুরা পৃথিবীর একেকটি ফুলের মতো। তাদের আকুতির সৌন্দর্যের চেয়ে পৃথিবীর আর কিছুই সুন্দর নেই। যে রাইফা ঘর জুড়ে প্রজাপতির মতো বিচরণ করত সে রাইফা যখন বাবার কোলে সাদা কাফনে ছিল তখন সব বাবাদের হৃদয় ভেঙে গেছে, সব বাবারাই নতুন করে শঙ্কিত হয়েছে কীভাবে অসুস্থ হলে সে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে এই ভেবে!

এমন কোনো কর্ম আছে যে তাতে কোনো ব্যর্থতা নেই? আছে নাকি এমন কর্ম? যদি এমন কর্ম থাকে যে তাতে কোনো ব্যর্থতা নেই তবে তো শুধু সে কর্মই মানুষ কর্ম হিসেবে নিত! বড় ব্যবসায়ী যিনি ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে অর্থবিত্তে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন কিনা তবে উত্তর পাবেন তার ব্যর্থতাই বেশি ছিল জীবনের কোনো এক সময়ে। ব্যর্থতা স্বীকার করলেও জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর কথা কেউ স্বীকার করতে চায় না। তাই বলে কি কেউ ভুল করে না? ভুল না করে যে শিক্ষাটা তাই কি সবচেয়ে বেশি সঠিক?

আমাদের চারপাশের নিয়মগুলো খুব বেশি করে অনিয়ন্ত্রিতকতার চিহ্ন দেখায়। সেদিন রাইফা মেয়েটা গলা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেল। ডাক্তার দেখলেন, মেয়েটির যন্ত্রণা কমার চেয়ে যন্ত্রনা বাড়তে বাড়তে খিঁচুনি শুরু হলো। তারপর অভাবনীয়ভাবে শিশুটি আমাদের ছেড়ে চলেই গেল। ডাক্তার নিশ্চই ইচ্ছে করে বাচ্চাটিকে মারতে চায়নি। কিন্তু কেন এমন হলো? ডাক্তারি বিদ্যায় এর ব্যখ্যায় কি?

ডাক্তারি বিদ্যা যাই বলুক ডাক্তারগণ আমাদের সমাজে এখনো সম্মানের দিক থেকে, মানের দিক থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আমরা তাদের মনে করি অসুখ সারানোর জাদুকর। যখন দেখি ডাক্তারের অবহেলায় বা ভুল চিকিৎসায় কেউ মারা গিয়েছে তখন ডাক্তারদের প্রতি রাগ হওয়ার চেয়েও অভিমানের জায়গাটা বেশি প্রসারিত হয়। মনে হয় তবে কি তারা সঠিক শিক্ষাটা নিতে পারছে না? সাধারণ মানুষ হয়ে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কথা বলা যেমনি আমরা বলতে পারি না তেমনি চাক্ষুস অবহেলা বা চাক্ষুস চিকিৎসা না দেয়ার ব্যপারটিও আমরা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারি।

রাইফার অসুখটি সেদিন আসলে কি ছিল বা কেন সেদিন এন্টিবায়োটিক দেয়ার পরই খিঁচুনি হলো তা যেমন আমাদের কাছে ধোঁয়াশা তেমনি নির্মম সত্য রাইফা কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিয়ে গিয়েছে এ পৃথিবী থেকে।

হয়তো ডাক্তাররা ইতোমধ্যেই কারণ দাঁড় করে ফেলবেন তাদের বাঁচার মতো করে অথবা সত্যিটুকুই। কিন্তু বাচ্চাটি যদি সত্যিই ভুল চিকিৎসায় বা অবহেলায় মারা গিয়ে থাকে তবে এই অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য প্রশ্ন করে, শাস্তি দিয়ে, অপরাধবোধ নিয়ে আসলে লাভ কতটুকু?

রাইফার সমান একটি বাচ্চা আমার ঘরেও আছে। তার অসুস্থতার সময় যদি আমি জিজ্ঞেস করি তোমার কি পেট ব্যথা করছে? সে সরাসরি বলে না। তাকে যাই বলি সে বলে না কিন্তু রাতে ঘুমানোর আগে একবার আমার মুখ, তার বোনের মুখ না দেখে ঘুমায় না। এ বয়সী শিশুরা পৃথিবীর একেকটি ফুলের মতো। তাদের আকুতির সৌন্দর্যের চেয়ে পৃথিবীর আর কিছুই সুন্দর নেই। যে রাইফা ঘর জুড়ে প্রজাপতির মতো বিচরণ করত সে রাইফা যখন বাবার কোলে সাদা কাফনে ছিল তখন সব বাবাদের হৃদয় ভেঙে গেছে, সব বাবারাই নতুন করে শঙ্কিত হয়েছে কীভাবে অসুস্থ হলে সে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে এই ভেবে!

আমি ধরে নিলাম রাইফার ক্ষেত্রে ডাক্তারের কোন দোষ নেই তাই বলে কি ডাক্তার হয়ে ও সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া একজন মানুষ বলতে পারেন সাংবাদিকদের ছেলেমেয়েদের চিকিৎসা দেয়াই বন্ধ করে দেব এমন কোনো কথা?

তদন্তের পর রিপোর্ট কি কোনোদিনও রাইফার পক্ষে দেবেন কোনো ডাক্তার? তারপর কোনো সাংবাদিক কি কোনো ডাক্তারের পক্ষে বলবেন যে ডাক্তারের কোনো দোষ ছিল না?

পেশায় পেশায় দ্ব›দ্ব সৃষ্টি হয়ে যারা ডাক্তার হয়ে বলতে পারেন সাংবাদিকদের সন্তানদের চিকিৎসা দেবেন না এমন কথা সে আদৌ কোনো সার্টিফিকেটে ডাক্তার তা কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়! এ কথার জন্যও তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ডাক্তারি বিদ্যা এমন কোনো অর্জিত বস্তু নয় যা ইচ্ছে করলেই অন্যকে দেয়া বন্ধ করে দেয়া যায়। ডাক্তারি হচ্ছে ব্রতর জায়গা যেখানে অন্য মানুষের হাসিতে সফলতার সত্যিকারের স্তম্ভ নির্ভর করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যাপারে যেমনি বলেছেন তেমনি ডাক্তারদের ব্যাপারেও বলেছেন। সঠিক তদন্ত হোক রাইফার মৃত্যুর। যদি ডাক্তার দোষী হয়ে থাকেন তবে শাস্তি হোক তার। যদি চিকিৎসার অবহেলা বা ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যু হয়ে থাকে তবে দায় নিতেই হবে, জবাবদিহি করতেই হবে, বিচারের মঞ্চে দাঁড়াতেই হবে। সবচয়ে বড় শঙ্কা হলো তদন্ততে কি আদৌ সত্য বিষয়টি মানুষ জানবে নাকি শুধু দেখানো তদন্তে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ!

ডাক্তার এবং সাধারণ মানুষের দূরুত্ব না কমাতে পারলে এই অসহনশীলতা থেকেই যাবে যা পরবর্তী সময়ে হতে পারে ভয়ানক। কেউ দোষী হলে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যত দ্রæত সম্ভব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন।

সাঈদ চৌধুরী : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, গাজীপুর।