কালাইয়ে খাবার পানির দাবিতে কলসি নিয়ে মানববন্ধন

আগের সংবাদ

বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা

পরের সংবাদ

বাড়ছে প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ

চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরমনৈরাজ্যে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২, ২০১৮ , ২:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২, ২০১৮, ২:০৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চলছে চরম নৈরাজ্য। অর্থলোভী কিছু চিকিৎসক ও চিকিৎসক সংগঠনের মুষ্টিমেয় কিছু নেতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির কারণে চিকিৎসার মতো মহান পেশাটি তার ঐহিত্য হারাতে বসেছে। আর এ কারণে চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের আস্থাও কমে যাচ্ছে। ফলে সঠিক চিকিৎসা পেতে অনেকেই বাধ্য হয়ে চট্টগ্রামের বাইরে এমনকি দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলা, নবজাতক চুরির ঘটনা অহরহ ঘটছে। এ জন্য ভালো চিকিৎসকরাও অনেকটা বিব্রত। তবে তারা এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও সাহস পান না। ফলে পুরো দায়ভার পড়ছে চিকিৎসক সমাজের ওপর।
সাম্প্রতিক সময়ে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে বাচ্চা চুরি, পিপলস হাসপাতালে দুই যমজের একটিকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ, সিএসসিআরে জীবিত শিশুকে মৃত বলা, ন্যাশনাল হাসপাতালে ৫ দিনের শিশুকে মেরে ফেলা, হাটহাজারীর আলিফ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষকের নবজাতকের মৃত্যু এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক রুবেল খানের একমাত্র কন্যা সন্তান রাইফার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্রমান্বয়ে ঘটতে থাকা এতসব অমানবিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে গণমাধ্যমে।
হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারভিত্তিক বাণিজ্য : সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক শ্রেণির দালালচক্র রোগীদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে নানা কৌশলে কমিশন বাণিজ্যের জন্য নানা ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়। আর এসব ক্লিনিক উপরে শান-শওকত থাকলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর গলাকাটা অবস্থা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাইনবোর্ড লাগানো থাকে এসব ক্লিনিকে কিন্তু তাদের দেখা পাওয়া অনেকটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। রোগীকে জিম্মি করে আটা হয় টাকা আদায়ের নানা ফন্দি-ফিকির। অসহায় রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা এ ক্ষেত্রে একেবারেই অসহায়। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নার্স-ওয়ার্ডবয় দিয়ে চিকিৎসা করানোর অভিযোগও আছে অনেক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামে বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা বাণিজ্য করার জন্য একাধিক ক্লিনিকে নাম দিয়ে রাখেন। রোগীদের নানা জায়গায় ধরে রেখে ফোনে বা মাঝে মাঝে গিয়ে চিকিৎসা করেন তারা। কালে ভদ্রে তাদের চেহারা দেখেন রোগীরা। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, চিকিৎসকের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসা অত্যন্ত অমানবিক। ইদানীং শিশু মৃত্যু ও চিকিৎসা নিয়ে বেশ অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিরা শাস্তি পাবে।
বেড়েছে ভুল চিকিসায় মৃত্যু ও শিশু চুরি : চিকিৎসক ও নার্সসহ চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় এত মানুষের মৃত্যু, তার পরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো নজির নেই। আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা গত ১৭ এপ্রিল নগরীর চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে জীবিত শিশু রেখে মৃত শিশু ধরিয়ে দেয়া হয় নোয়াখালীর এক দম্পতিকে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার জায়গায় ৯৬ ঘণ্টার মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পক্ষপাতমূলক এই প্রতিবেদন সমালোচনার মুখে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এরপর আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় ঘটনাটি। গত ৯ জুন হাটহাজারীর আলিফ হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় মারা যায় বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষকের নবজাতকের। নবজতাকটির বাবা থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সমাঝোতা করার পরামর্শ দেয় থানা-পুলিশ। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে মারা যায় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহ আলমের নবজাতক শিশু। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নগরীর মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালেও একটি ৫ দিনের শিশুর মৃত্যু হয় ডাক্তারের অবহেলায়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের অক্টোবরে নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে জীবিত শিশুকে মৃত শিশু বলে ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু পলিথিনে মোড়ানো মৃহদেহটির প্যাকেট খুলে দেখা যায় শিশুটি তখনো জীবিত। এরপর অন্য হাসাপাতালে ভর্তি করানোর ৩৪ ঘণ্টা পর মারা যায় শিশুটি। সে ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল কিন্তু আবারো সেই অদৃশ্য শক্তির কারণেই কার্যকর হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন।
চমেক হাসপাতালে সক্রিয় শিশু চোর সিন্ডিকেট : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চুরির ঘটনা বাড়ছে। মাঝেমধ্যেই এসব ঘটনায় কেউ কেউ আটক হলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না শিশু চুরির ঘটনা। আটককৃতদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে নবজাতক চুরির সিন্ডিকেট। এদিকে হাসপাতালে বসানো সিসি ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশই নষ্ট। যে কারণে শিশু ও পণ্য চুরিসহ নানা অপরাধ ঘটলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রমাণের অভাবে অপরাধী শনাক্ত করা যায় না।