খানিক লম্বা চুলে

আগের সংবাদ

মাতারবাড়ীতে পাঁচশ পরিবার পানিবন্দি

পরের সংবাদ

সুরমা নদীতে ফের ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০১৮ , ৫:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১, ২০১৮, ৫:০০ অপরাহ্ণ

কানাইঘাট উপজেলার সুরমা নদীর ডান তীর বনগৌরিপুর থেকে কুওরগড়ি মন্দিরেরঘাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সুরমা ডাইকে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কয়েক মাস আগে গৌরিপুর সুরমা ডাইকের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার কয়েক অংশে ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদী ভাঙন ও বন্যার কবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালির বস্তা ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়।
তবে সুরমা নদীর তীব্র ভাঙনে বন গৌরিপুর সুরমা ডাইকের প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কানাইঘাটসহ পাশর্বর্তী জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট এলাকার মানুষকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করার জন্য অনেক আগ থেকেই সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন জরুরি ভিত্তিতে গৌরিপুর সুরমা ডাইক রক্ষাবাঁধ মেরামতের জন্য সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীকে আশ^স্ত করেন।
গত এপ্রিল মাসে শুকনো মৌসুমে ভাঙনকবলিত বনগৌরিপুর সুরমা ডাইক নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ হাজার ৭শ মিটার লম্বা মাটির বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ওই মাটির বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
এ নিয়ে এলাকাবাসী সোচ্চার হলে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মনগড়াভাবে মাটির বাঁধের কাজ শেষ করে এলাকা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। বেআইনিভাবে এক্সেভেটর দিয়ে বাঁধের পাশে গভীর গর্ত করে কাজ করায় সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নির্মাণাধীন বাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ নিচু হওয়ায় তার উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়ে নির্মাণাধীন সুরমা ডাইক রক্ষাবাঁধ তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গৌরিপুর সুরমা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করে মাটির রক্ষাবাঁধের কাজের অনিয়ম দেখা গেছে।
বিশেষ করে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার মানুষের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না করে অনেকের ফসলি জমি নষ্ট করে। বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর তীব্র স্রোতে যে কোনো সময় রক্ষা বাঁধের বেশিরভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোটি টাকার কাজের স্থলে ৩০/৩৫ লাখ টাকার কাজ করে চলে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, যেভাবে বনগৌরিপুর হতে কুওরগড়ি ও লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রাম পর্যন্ত ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে বাঁধের কাজ করে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
গৌরিপুর সুরমা ডাইকের বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকায় দিন দিন ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। একমাত্র স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
জনগুরুত্বপূর্ণ বনগৌরিপুর সুরমা ডাইকের বিপজ্জনক ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
বাঁধের নি¤œমানের কাজের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রকৌশলী আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাটির বাঁধের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হলে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো কাজের পুরো বিল প্রদান করা হয়নি বলে তিনি জানান।