বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী সংকট

আগের সংবাদ

টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শেষ আটে রাশিয়া

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সমস্যায় চীনই বড় সহায়ক শক্তি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০১৮ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১, ২০১৮, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

আহমদ রফিক

ভাষা সংগ্রামী, লেখক ও গবেষক

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তার বিষয়টি বলা বাহুল্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রশক্তিগুলোকে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে ইঙ্গ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে। সেই সঙ্গে অন্য ইউরোপীয় প্রধান শক্তিগুলোকে। চীন এ যাবৎ এ বিষয়ে নীরব। শুরুতে তো তারা মিয়ানমারের পক্ষে কথা বলেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন তথা তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী অনেক ঢাকঢোল পেটানোর পর এখন কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এটাই হয়তো চেয়েছিল মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা এবং তথাকথিত গণতন্ত্রী নেত্রী অং সান সু কি।

তথাকথিত সমঝোতামূলক আলোচনার মধ্যেও জাতিসংঘের দূত ও প্রতিনিধিদের উপদ্রুত রাখাইন অঞ্চলে প্রবেশ করতে দেয়নি মিয়ানমারের সামরিক-বেসামরিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বেয়াড়া আচরণ কেন যে জাতিসংঘ বিনম্র মানসিকতায় মেনে নিয়েছিল তা আমাদের যুক্তিতে মেলে না, বোধে আসে না। এরপর কেমন এক অদ্ভুত নিষ্ক্রিয় নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলের।

বাংলাদেশ এ ব্যাপারে এক অসহায় অবস্থার সম্মুখীন। এমন আশার কথাই শরণার্থী ডামাডোলের সময় আমরা লিখেছিলাম, তাতে স্বদেশবাসী কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মানবিকতার কথা তুলে। এখন সেই অপ্রিয় সত্যই নানা দিক থেকে প্রকাশ পাচ্ছে। পাচ্ছে রোহিঙ্গদের অবাঞ্ছিত আচরণে। একাধিক রোহিঙ্গা শিবির নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের উৎস হয়ে উঠছে, জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসার সঙ্গে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশি সমাজের অসাধু ব্যক্তিরা, মাস্তান ও সমাজবিরোধীরা। সাধারণত শরণার্থী শিবিরে যেমনটা ঘটে থাকে। এসব অন্যায় বা অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সামান্যই, সামাজিক-প্রতিরোধের কোনো আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুটিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করছে না। স্বভাবতই তারা এ ব্যাপারে কোনো সক্রিয় কর্মসূচি গ্রহণ করছে না।

অবস্থাদৃষ্টে সরকারি তৎপরতাও কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। কারণ বর্তমান সময়টা হয়ে উঠেছে নির্বাচনী বছর। স্বভাবতই সবার নজর সেদিকে। রোহিঙ্গা ইস্যু কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এটা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। যে কোনো সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুই একবার পিছিয়ে পড়লে সেটাকে নিয়ে সহজে এগিয়ে যাওয়া চলে না। যেটা মৃত ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। যেমন হয়েছে এত্তারের পাকিস্তানবাসী। বিহারিদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর ইস্যুটি। পাকিস্তান চাতুর্যের সঙ্গে বিহারি ইস্যুকে আমাদের ঝুড়িতে চাপিয়ে দিয়েছে।

দুই.
সত্য বলতে কি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সমস্যা-জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে; এবং তা নানা মাত্রায়। প্রথম সমস্যা হলো, রোহিঙ্গারা কি আদৌ ফিরে যেতে ইচ্ছুক? এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইচ্ছা-মতামত তাদের ওপর বড় একটা প্রভাব বিস্তার করছে না। এখন প্রশ্ন : বাংলাদেশ কি পারবে বা তাদের পক্ষে কি সম্ভব হবে জোরজবরদস্তি করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে। সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। আর সেটা বাস্তবে সম্ভবও নয়।

এ ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস ; স্বদেশ, জন্মভূমি, বাস্তুভিটা প্রভৃতি আবেগজড়িত অনুভূতির প্রসঙ্গে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের প্রতিক্রিয়া বড় একটা ইতিবাচক নয়। এর বড় কারণ সেখানকার সামারিক বাহিনী, বর্মী জাতীয়তাবাদী, এমনকি অহিংস বুদ্ধের পূজারী ভিক্ষুগণ যে মাত্রায় উগ্র, নিষ্ঠুর সহিংসতা প্রদর্শন করেছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে, সেই স্মৃতি তাদের ফিরে যাওয়ার পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, মূলত তাদের মানসিক বিপর্যয়ের কারণে। বাস্তুভিটার টান এ ক্ষেত্রে প্রভাব না রাখারই কথা। অন্তত শরণার্থীদের আচরণ দেখলে তাই মনে হয়। হয়তো তাদের প্রত্যাশা- শরণার্থী থেকে এক সময় বাংলাদেশবাসী হয়ে যাওয়ার।

এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদন সূত্রে বলা যায়, ‘রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়ানোই ছিল সেনাপ্রধানের নির্দেশ’ (২৭.৬.২০১৮)। সে নির্দেশ নিষ্ঠাভরে পালন করেছে সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা ও দুর্বৃত্তরা। ‘জঞ্জালমুক্ত’ করার নির্মম ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ নাগরিকগণও অংশ নিয়েছিল নারী-পুরুষ-শিশু হত্যা ও বিতাড়নের উন্মাদনায়।

এ ঘটনা সত্য হওয়ার কারণেই দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার শাসকদের পাথুরে অনড়তা, নানা ছলাকলার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকেও পাত্তা না দেয়ার উদ্ভট, অমানবিক মানসিকতা। আর আশ্চর্য, জাতিসংঘও এ বিষয়ে কঠিন-মানবিক মনোভাব নিচ্ছে না, সেটা কি ওয়াশিংটনের নিরাসক্তির কারণে?

তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের মনে সংশয় ও আশঙ্কা, আর সংবাদপত্রে শিরোনাম : ‘রোহিঙ্গারা কি আদৌ ফিরতে পারবে’। এ আশঙ্কার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যা আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়। শুধু এ দেশের নাগরিকই নয়, আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা-প্রত্যাবাসনে চাই অর্থপূর্ণ পরিবর্তন।’ বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ এ উক্তির রাজনৈতিক সত্যতা অস্বীকারের উপায় নেই। কারণ মিয়ানমার এ পুনর্বাসনে আন্তরিক না হলে একদিকে যেমন প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে না, অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সাফল্য মিলবে না। তারা হয়তো ফিরে গিয়ে আবারো নিষ্ঠুর নিপীড়নের শিকার হবে। এটা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমস্যা মুক্তির পথে একটি অন্যতম প্রধান বা দ্বিতীয় বাধা বলা যেতে পারে। এক কথায় মিয়ানমার শাসকদের প্রত্যাবাসনে সদিচ্ছা সম্পর্কে তারা মুখে যাই বলুক, মন্ত্রী এসে কক্সবাজার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে যাক, প্রকৃত সত্য হলো তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না। চাইলে রোহিঙ্গাদের হত্যার পরিকল্পনা নিতে পারত না। এমনকি রোহিঙ্গা বসতি এলাকা, উত্তর রাখাইনের ভ‚মি বদলে দিতে পারত না। তাও সেনাবাহিনীর সাহায্যে বুলডোজার দিয়ে ওই এলাকাটিকে বিরানভ‚মিতে পরিণত করে নতুন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারত না।

এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অজানা নয়; অজানা নয় জাতিসংঘ মহাসচিব বা সংশ্লিষ্ট মহলের। অথচ তারা টুঁ শব্দটি করছে না। যে যার রাজনৈতিক হিসাবমাফিক ছক কষছে। পক্ষে বা বিপক্ষে কার কতটা লাভ বা সুবিধা সেটা তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ধীরে চলার সুযোগ নেই। সময় তার ঘণ্টা বাজিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে। যা করার এখনই করতে হবে।

কি করতে পারে বাংলাদেশ? এ ক্ষেত্রে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লড়াই শুরু করার কোনো সুযোগ নেই। এ লড়াইটা মূলত রাজনৈতিক-ক‚টনৈতিক। বুদ্ধি, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দরবার করা প্রধান বিষয়। যেমন পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে তেমনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মহলে। মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের মতো ছোট্ট ভ‚-রাষ্ট্রে ভিন্ন জাতিসত্তার রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেয়া সম্ভব নয়। তাই শুধু ‘চিঠি চালাচালিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সীমাবদ্ধ’ রাখলে চলবে না। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ দরবারে নামতে হবে ক‚টনৈতিক চাতুর্যে, মননশীল সংলাপে। দ্বিপাক্ষিকের চেয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব অধিকতর। কিন্তু এ পথে সাফল্যের কোনো আলোকরেখাই দেখা যাচ্ছে না। আমরা আগে একাধিকবার লিখেছি যে, বাংলাদেশকে মনে হয় আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে, সে জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। এ বিষয়ে সময় নষ্ট না করে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করা দরকার। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সে সত্য জাতিসংঘ যেমন স্বীকার করেছে, তেমনি করেছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, তাদের সহায়তা আমাদের নিতে হবে।

তিন.
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক দিকটি এখনো প্রধান হয়ে আছে। এদিক বিচারে সামনে হতাশার অন্ধকার। এর মধ্যে হঠাৎ করেই দু’একটি সংবাদে দেখা যাচ্ছে আশার আলোকরেখা। যেমন একটি খবর: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে ‘মিয়ানমারকে চাপের মধ্যে রাখতে হবে’। প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডের এ বক্তব্য মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যার তদন্ত সম্পর্কে।

বলা বাহুল্য এ ধরনের বক্তব্যে বাংলাদেশের আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। কারণ রাজনীতি-কূটনীতির ক্ষেত্রে এ জাতীয় বক্তব্য-বিবৃতি গতানুগতিক শিষ্টাচারের অংশ বলে ধরে নেয়া উচিত। তবু দরকার এসব মন্তব্যের বাস্তব সদ্ব্যবহার এবং সে কাজে সক্রিয় হওয়া। না হলে এগুলো রাজনৈতিক কথার কথাই হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে আরেকটি খবরের শিরোনাম : ‘রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৮ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক’।

সন্দেহ নেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা সেবায় বাংলাদেশের অনেক অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সেটাই প্রধান বিষয় নয়। প্রধান বিষয় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের স্বদেশভ‚মিতে পাঠানো। সেই নিরাপত্তার বিষয়টিই তো আসলে প্রশ্নবিদ্ধ। এ নিশ্চয়তা তাদের কে দেবে? মিয়ানমার? তা কতটা নির্ভরযোগ্য? দেবে জাতিসংঘ? অবশ্যই তাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপত্তার বিষয়টি বলা বাহুল্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রশক্তিগুলোকে এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে ইঙ্গ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে। সেই সঙ্গে অন্য ইউরোপীয় প্রধান শক্তিগুলোকে। চীন এ যাবৎ এ বিষয়ে নীরব। শুরুতে তো তারা মিয়ানমারের পক্ষে কথা বলেছে। পরে ঘটনার বর্বরতায় ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সুর নরম করেছে।

এখন হঠাৎ করে কী ভেবে তাদের বক্তব্যে পরিবর্তন! ‘রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে সহযোতিার আশ্বাস চীনের’- এমনটাই দেখছি সংবাদ-শিরোনামে। বেইজিংয়ে ওয়াং ইও এবং মাহমুদ আলীর বৈঠকে এমন বক্তব্য চীনা পক্ষের। বলতে হয় বিস্ময়কর এ পার্শ্ব পরিবর্তন চীনা ক‚টনীতির! আমরা জানি না, কতটা নির্ভরযোগ্য এ ক‚টনৈতিক ভাষ্য। তবু তৃণখণ্ড ধরেই এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

কারণ, এ প্রত্যাবাসন যজ্ঞে চীনের ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সর্বাধিক নির্ভরশীলতা চীনের ওপর। সত্যি বলতে কি প্রবল মার্কিনি নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে এতকাল মিয়ানমারকে আপন অবস্থানে ঠিকঠাক থাকতে সাহায্য করেছে চীন। এখন চীন যদি এ বিষয়ে সত্যি আন্তরিক হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আজকের (৩০.৬.২০১৮) আর একটি সংবাদ।

চীন বলছে, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার তৈরি’। আমরা আগেই বলেছি : ‘বাংলাদেশের বাজার চীনা পণ্যে সয়লাব’, এমনই বাণিজ্যিক সম্পর্ক চীনের সঙ্গে। তদুপরি পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বাংলাদেশে রয়েছে চীনের বিপুল পরিমাণ সহায়তা। স্বভাবত বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের আন্তরিক সহায়তা চাইতেই পারে।

আমরা এ কথাটির ওপর জোর দিয়েছিলাম, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুতেই যখন লাখ লাখ শরণার্থীর ঢেউ আছড়ে পড়েছে চট্টগ্রাম সীমান্তে। বাংলাদেশ যে এখন এ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এটাই সুখবর।

চীনের এ ইতিবাচক মনোভাব কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকে। রোহিঙ্গা সমস্যাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের পথ ধরতে হবে বাংলাদেশকে। দেরি করলে অনেক কিছু হারাতে হবে।

আহমদ রফিক : ভাষা সংগ্রামী, লেখক ও গবেষক।