ব্রাজিলে সাম্বার ঢেউ

আগের সংবাদ

আ.লীগে অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী, বিএনপিতে একক

পরের সংবাদ

আঁতুড়ঘরে হাতিরঝিল থানার কার্যক্রম

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৮ , ৪:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২৯, ২০১৮, ৪:১৩ অপরাহ্ণ

গত বছরের ২০ নভেম্বর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় রাজধানীতে ৫০তম থানা হিসেবে হাতিরঝিল থানা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ওই প্রস্তাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন ‘হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্প এলাকায় হাতিরঝিল থানা স্থাপন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭১টি পদ সৃজন করা হয়। নির্ধারণ করা হয় সীমানা। নিয়োগ দেয়া হয় ইন্সপেক্টর ইনচার্জসহ (ওসি) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। কিন্তু নানা জটিলতায় এখনো আতুড়ঘরেই রয়ে গেছে হাতিরঝিল থানার কার্যক্রম।

সূত্র জানায়, হাতিরঝিলের মধুবাগে থানার জন্য একটি বাসা ভাড়া নেয়া হয়েছে। জনবলও নিয়োগ চলছে। কিন্তু কিছু জটিলতায় এখনো থানার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। হাতিরঝিল থানার কার্যক্রম শুরু হলে নগরবাসীর নিরাপত্তা আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম ভোরের কাগজকে বলেন, হাতিরঝিল থানার জন্য ইতোমধ্যেই মধুবাগে একটি বাসা ভাড়া করা হয়েছে। ওসিসহ ৩ জন ইন্সপেক্টর, ৭ জন এসআই ও ২০ জন এএসআই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে, এখনো ফোর্স নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফোর্স নিয়োগ দেয়া হলে অতি শিগগিরই থানার কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০২ একর জায়গাজুড়ে লেক, চারদিকে ৯.৮০ কি.মি. রাস্তা, ১০টি ব্রিজ, ৩টি ভায়াডাক্ট ও ওভারপাসসহ অনেকগুলো ফার্নিচার স্ট্রিট লাইট এবং অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে এই প্রকল্প এলাকার ভ্রমণকারী জনগণ নানা ঝুঁকিতে থাকছেন। গাছপালা নষ্ট, ডাস্টবিন চুরি, বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় লোকজনের প্রাণহানি, ইলেকট্রিক পোল বা লাইটের তার চুরি হওয়ার পাশাপাশি ব্রিজ, ভায়াডাক্ট এবং ভিইয়িং ডেকসমূহের রেলিং ভেঙে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ইলেকট্রিক ক্যাবল চুরি হচ্ছে।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, হাতিরঝিল ঢাকা শহরের মধ্যে বিস্ময়কর সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। প্রকল্পটি হওয়ার পর এ অঞ্চলের আকর্ষণ ও মানুষের সমাগম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা ছাড়া এলাকার নিয়মিত বাসিন্দা ছাড়াও অগণিত মানুষ প্রতিদিন ভ্রমণে আসেন। ছুটির দিন কিংবা পালা-পর্বণে মানুষের ঢল নামে। ডিএমপির আওতাধীন এলাকা হওয়া সত্তে¡ও রমনা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, রামপুরা, গুলশান ও বাড্ডা থানাসমূহের অংশ নিয়ে গঠিত হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সঠিকভাবে মোকাবেলা করা যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, নতুন এই থানার জন্য ৭৮ জন জনবল চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এএসপি একজন, ইন্সপেক্টর দুজন, এসআই ১৯, এএসআই ২০ এবং কনস্টেবল ৩৪ জন। যানবাহন হিসেবে ৩টি পিকআপ ও ১৫টি মোটরসাইকেল চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি জেনারেটরও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার আওতাধীন এলাকা : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৫নং ওয়ার্ডের মীরেরটেক, মীরবাগ, মধুবাগ, পূর্ব নয়াটোলা, দক্ষিণ নয়াটোলা, মগবাজার ওয়ারলেস কলোনি, উত্তর নয়াটোলা ২য় বাগ; ৫৪নং ওয়ার্ডের বড় মগবাজার, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন রোড, পশ্চিম মগবাজার, মধ্য পেয়ারাবাগ, গ্রিনওয়ে, উত্তর নয়াটোলা ১ম বাগ; ৩৯নং ওয়ার্ডের সার্ক ফোয়ারা, হোটেল সোনারগাঁও রোড, বিজিএমইএ ভবন ও লিংক রোডের রেল ক্রসিং; ৩৭নং ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ি খাল ও রেইনবো ক্রসিং এবং ৩৮নং ওয়ার্ডের তেজকুনি পাড়া, শাহীনবাগ, আরজতপাড়া ও সংলগ্ন এলাকা।

হাতিরঝিল থানার সীমানা : উত্তরে সার্ক ফোয়ারা ক্রসিং, সোনারগাঁও হোটেল পান্থপথ হয়ে টঙ্গী ডাইভারশন রোড সংযোগস্থল হয়ে হাতিরঝিল লিংক রোডের উত্তর পাশ ঘেঁষে গুলশান ব্রিজ পর্যন্ত। পশ্চিমে সার্ক ফোয়ারা ক্রসিং থেকে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার মাঝ দিয়ে রাস্তার পূর্ব দিকের অংশ। দক্ষিণে বাংলামোটর ক্রসিং থেকে ইস্কাটন রোড হয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে নিউ সার্কুলার রোড হয়ে মৌচাক ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার মাঝ দিয়ে রাস্তার উত্তর দিকের অংশ। পূর্বে মৌচাক ক্রসিং হয়ে মালিবাগ রেলগেট হয়ে রামপুরা ডিআইটি রোড হয়ে রামপুরা ব্রিজ হয়ে প্রগতি সরণির হাতিরঝিল লিংক রোড পর্যন্ত রাস্তার মাঝ দিয়ে পশ্চিম অংশ।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা