এগ ওয়াইট এন্ড অ্যাভোক্যাডো স্যান্ডউইচ

আগের সংবাদ

পূবাইলে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত

পরের সংবাদ

সামার ফ্যাশন

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৭, ২০১৮ , ১:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২৭, ২০১৮, ২:০২ অপরাহ্ণ

ঋতুর রঙের সাথে মিলিয়ে থাকুন আরামদায়ক এবং ফ্যাশানেবল”

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, তবু বছর জুড়ে গরমের দাপট থাকে। এর মধ্যে আমাদের প্রতিদিন নানা কাজে, অফিসে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেতে হয়। এত গরমে রংচঙা , ভারী কাপড় পরে বের হলে কেমন হতে পারে তা- বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই?

ফ্যাশন বলতে শুধু কিন্তু হাই-মেকাপ নয়, এর সাথে সম্পর্কিত থাকে একটি কমফোর্টেবল লুকও। ‘ড্রেসিং সেন্স’ বলে প্রায়ই একটা টার্ম আমরা শুনে থাকি। গরমে কি করে ফ্যাশনেবেল ও আরামদায়ক থাকা যায়, তার ধারণাই আজ জানবো আমরা।

সিকোয়েন্স- ১: স্কিনটোন এন্ড শেইপ

অনেকের গায়ের বর্ণ নিয়ে দ্বিধাবোধ থাকে যে, কোন রঙে দেখতে উজ্জ্বল লাগবে আর কোন রঙে লাগবে না । কোন প্রিন্ট-এ কেমন মানাবে তাও বুঝা একটু কঠিন হয়ে যায়। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে খুব সহজেই নিজের পছন্দের রঙ ও প্রিন্ট-এর পোশাকগুলো বাছাই করা যায়।

চলুন তবে জেনে নেই কোন রঙে কাকে কেমন মানায়।

যাদের বর্ণ উজ্জ্বল

উজ্জল বর্ণে সব রঙই মানায়। তবে, বড় ও ঘিঞ্জি ডিজাইন ব্যবহার না করাই ভালো । ছোট ছোট ফ্লোরাল প্রিন্ট, ছোট পোলকা ডট, হাল্কা বাটিকের ডিজাইন, ছোট ব্লকের কম্বিনেশন- এ ধরনের কাপড়ের পোশাকগুলো আপনাকে আরাম দেবে এবং সাথে করে তুলবে আকর্ষণীয়।

 

যাদের বর্ণ শ্যামলা

শ্যাম বর্ণটি খুবই আকর্ষণীয় একটি বর্ণ। এই বর্ণে ডার্ক কালারগুলো খুব মানায়। যেমন ধরুন- ম্যাজেন্টা, ফিরোজা, কালচে কমলা- এই ধরনের রঙগুলো শ্যাম বর্ণকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। মাঝারি ব্লক বাটিক ও এনিমেল প্রিন্ট কম্বিনেশনের পোশাক নিতে পারেন।

 

শারীরিক গঠন এর সাথেও রয়েছে ফ্যাশন-এর সম্পর্ক। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে স্কিনটোনের সাথে সাথে শারীরিক গঠন বুঝে কাপড় বাছাইটাও কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। আচ্ছা চিন্তা করে দেখুনতো সামনে একই সাইজের ড্রেস রাখা আছে, সব শেইপের মানুষ কি একই সাইজের ড্রেসে ফিট হবে? – উত্তর হচ্ছে কখনই না। একেক জনের বডি শেইপ একেক ধরনের হয়।

এখন জানবো, কোন গঠনের সাথে কেমন পোশাক ভালো মানাবে।

শর্ট-হাইট

এক কালারের ড্রেস, যেমন- মুডী কালার, ডার্ক মেরুন, ব্রাউন, ডার্ক গ্রিন, বাসন্তী, ছোট প্রিন্ট, ফ্লোরাল ইত্যাদি।

প্লাস সাইজ

যারা প্লাস সাইজের, তারা উজ্জল ও শ্যাম বর্ণ অনুযায়ী কাপড় পছন্দ করতে পারেন যেমনটা উপরে স্কিনটোন সিকোয়েন্সে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সিকোয়েন্স-২: কমফি ফ্যাশনেবল সামার লুক

অনেকেই ফ্যাশন বলতে ভারী ও গরজিয়াস লুককে মনে করেন। আসলে তা নয় কিন্তু। আপনি যেটাই মার্জিতভাবে আপনার মতো করে পরিধান করবেন, তাই হবে আপনার ফ্যাশন।

আমাদের রেগুলার ড্রেস-গুলোকে কিভাবে ফ্যাশনেবল ও অ্যাট্রাকটিভ  করে পরা যায় তাই নিয়ে কথা বলবো।

আমাদের রেগুলার চলাফেরার জন্য কুর্তিটা একই সাথে খুবই আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। কিন্তু এটা কি দিয়ে পরা যায় এ দ্বিধায় অনেকেই পড়েন। এক্ষেত্রে আপনার কুর্তিটা যদি ফিটিং হয় তাহলে ডিভাইডার, থ্রি-কোয়ার্টার, লেগিংস, রিপড জিন্স, ফুল লেগিংস- এসব দিয়ে পরতে পারেন।

 

পালাজ্জোর ফ্যাশনটা খুবই আরামদায়ক এবং দেখতেও মার্জিত। এখন মার্কেটে স্কার্ট শেইপের পালাজ্জো পাওয়া যাছে এগুলো অন্যান্য পালাজ্জোর  তুলনায় হাইটে বড় ও লুজ ফিটিং । এগুলোর সাথে ক্রপ টপ , বেলি পর্যন্ত  হাইটের টি-শার্ট, টপস, শর্ট টপস হাঁটু পর্যন্ত  লম্বা ফতুয়া- এগুলো পরতে পারেন ।

বেল বোটম প্যান্টগুলো কিন্তু দেখতে সুন্দর এবং পরতেও আরামদায়ক । এর সাথে ক্রপ টপস, শর্ট টপস, শার্ট- এগুলো পরতে পারেন ।

অনেকে স্লিভলেস পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না । আপনি যদি শার্ট, ফতুয়া, টপস ও লং-কামিজ পরেন, সাথে লং জ্যাকেট ,কেইপ,  হাফ জ্যাকেট, শ্রাগ ইত্যাদি পরতে পারেন। ভাবছেন গরমে আবার এগুলো কিভাবে পরবেন ? তাহলে বলি, মার্কেটে নেট, কটন ও জর্জেট-এর কেপ, শ্রাগ, জ্যাকেট পাওয়া যাছে। ব্যস! আপনার ড্রেস এর সাথে মিলিয়ে পছন্দ করে নিন।

 

সিকোয়েন্স-৩: রোদের প্রকটে রঙিন ছায়া

বাইরে সূর্যের তাপ যেন প্রতিদিনই বাড়ছে। এই প্রচণ্ড গরমেও আমাদের প্রতিদিন ছুটতে হচ্ছে নানা কাজে। গরমে হাল্কা কাপড়ের আড়ালে নিজেকে আরামে রাখলেও চোখকে কিছুতেই আমরা রোদের তাপ থেকে আড়াল রাখতে পারি না।

আর এই মুখের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হছে আমাদের চোখ। চোখ  ক্লান্ত হয়ে পরলে আমাদের পুরো শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। তাই এই প্রচণ্ড তাপে কি করে চোখকে সতেজ রাখা যায় তাই আজ জানবো আমরা।

(১) চোখকে রোদ থেকে আড়াল করতে সানগ্লাস এর কোন জুরি নেই। এটি চোখকে নানা ধরণের সমস্যা থেকে প্রটেক্ট করে। রোদের তীব্রতা আমাদের চোখের আলোকরশ্মির ক্ষতি করে। স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশন-এর মতে রোদের আদ্রতা আমাদের চোখের নেত্রপল্লবের ৫%-১০% ক্ষতি করে যা স্কিন ক্যানসার এবং স্কিন ড্যামেজ করে, সাথে আরও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে।

এছাড়া সানগ্লাস ব্যবহার করলে আপনার চোখ নানা ধুলোবালির কবল থেকেও রক্ষা পায় সানগ্লাস ব্যবহারে সারাটা সময়জুড়ে বায়ু এবং ক্ষতিকারক সব জিনিস থেকে আপনার চোখ রক্ষা পাবে। যাদের মাইগ্রেন ও সাইনাস এর প্রবলেম আছে তাদের অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

(২) সানগ্লাস-এর অনেক ডিজাইন আছে। ফেইস শেইপ অনুযায়ী সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। মুখের গঠন বুঝে কোন ডিজাইন-এর সানগ্লাস ব্যবহার করা যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক।

এখানে বিভিন্ন আকারের মুখের ছবি দেয়া আছে। আপনার মুখের আকার বুঝে আপনি এই সানগ্লাস-গুলো ব্যবহার করতে পারেন। মার্কেটে এখন নানা ডিজাইন-এর সানগ্লাস পাওয়া যায় । আপনি সেখান থেকে আপনার মুখের সাথে মানিয়ে সানগ্লাস বাছাই করতে পারেন।

সানগ্লাস  কেনার সময়  ব্র্যান্ড-এর ব্যাপারটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন । ফুটপাথ থেকে সানগ্লাস না কেনাই ভাল, এতে আপনার চোখের ক্ষতি হতে পারে। একটু দাম হলেও চোখের সুস্থতার জন্য ভাল সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

যারা চশমা ব্যবহার করেন, তারা চশমার পাওয়ার সানগ্লাসে সেট করে নিতে পারেন। এতে আপনার ব্যবহারেও সুবিধা হবে। এভাবে এই গরমে আপনার চোখকে রাঙান সানগ্লাসের নানা রঙ্গে। চোখকে দিন স্বস্তি, সাথে  আপনিও থাকুন সতেজ ও ফ্যাশনেবল।

 

এইতো জেনে নিলেন সামার ফ্যাশন-এর কিছু বেসিক প্রয়োজনীয় কথা। গরম সবার কাছেই বিরক্তিকর লাগে, অনেকে ভাবেন গরমে আবার ফ্যাশন কি? এই বেসিক ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে চললে একটি আরামদায়ক ফ্যাশনেবল সামার লুক পাওয়া আসলেই কঠিন কিছু নয়।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা