ইচ্ছেগানের পুতুল

আগের সংবাদ

ব্যাকবেঞ্চার ঐশ্বর্য

পরের সংবাদ

সৌন্দর্যের রানী

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৪, ২০১৮ , ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২৪, ২০১৮, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

তিনি একাধারে অভিনেত্রী, পরিচালক প্রযোজক এবং সব ক্ষেত্রেই তিনি সফল। কিন্তু তারপরও তার অভিনয় এবং সৌন্দর্যের দ্যুতির কাছে সব যেন ম্লান হয়ে যায়। আর শুধু আমি আপনি না, সারা বিশ্বই যেন তার সৌন্দর্য দেখে প্রেমিকের মতো মুচকি হাসি দেয়। টেরেসা, ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট, ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মেক্সিকো নামগুলো শুনলেই মনে দোলা দিয়ে যান তিনি। তিনি আর কেউ নন। তিনি মেক্সিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী সালমা হায়েক

১৯৬৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্প্যানিশ-লেবানিজ মা-বাবার ঘরে তার জন্ম। তার মার দিক থেকে বলতে গেলে বলা চলে শিল্প সংস্কৃতি যেন তার রক্তেই। কেননা তার মা ডায়না জিমনেজ মেডিনা একজন অপেরা সিঙ্গার ছিলেন। আবার যখন দেখি সালমা হায়েক একজন সফল প্রযোজক, তখন মনে হয় ব্যবসা যেন তার রক্তেই। কেননা তার বাবা সামি হায়েক ডমিনগুয়েজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
সালমা হায়েক বেড়ে ওঠেন এক ধনাঢ্য ক্যাথলিক পরিবারে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পড়ালেখার উদ্দেশ্যে তার ফুপুর সঙ্গে আমেরিকার লুইজিয়ানায় চলে যান। সেখানে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হন। সালমা হায়েক পরিণত বয়সে এসে অভিনয়ের সঙ্গে জড়ালেও অভিনয়ের স্বপ্নটা তিনি লালন করেছিলেন শৈশব থেকেই। টেলিভিশনে উইলি ওয়াঙ্কা এবং দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি মুভি দেখতে দেখতেই।
১৯৯১ সালে মেক্সিকো থেকে সালমা হায়ে মেক্সিকান টেলিনোভেলা (রেডিওতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক) ‘টেরেসা’ তে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। ভাগ্যদেবতা যেন খুবই সদয় ছিলেন সালমা হায়েকের ওপর। কেননা এক টেরেসাতে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি মেক্সিকান তারকা বনে যান। এরপরই সালমা হায়েক চলে যান ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টেলা এডলারের অধীনে অভিনয়ের ওপর পড়াশোনা করতে। উদ্দেশ্য ইংরেজির ওপর দক্ষতা বাড়ানো এবং হলিউডে টিকে থাকার উপযুক্ত অভিনয়টা শিখে নেয়া। অতঃপর ১৯৯৫ সাল। হায়েকের হলিউডে অভিষেকের মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৯৫ সালে তিনি এন্টেনিও ব্যান্ডেরাসের বিপরীতে ‘ডেসপেরাডো’ সিনেমার মাধ্যমে শুরু করেন হলিউড যাত্রা। এর পরপরই ‘ফ্রম ডাস্ক টিল ডাউন’ সিনেমায় হাজির হন একজন ভ্যাম্পায়ার কুইনের চরিত্রে। এরপর আর সালমা হায়েককে পেছনে ফিরে তাকাতে আর হয়নি। শুধু সামনে এগোনোর পালা। তার অভিনীত ফুলস রাশ ইন, ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট, ডগমা নামক সিনেমাগুলো যেন সেই কথাই বলে।
ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মেক্সিকো সিনেমাটি সালমার ক্যারিয়ারের প্রথমদিকের মুভি ‘ডেসপেরাডো’র কথা মনে করিয়ে দেয়। কারণ এই সিনেমাটিতে তিনি তার ডেডপেরাডোর চরিত্রেরই সিক্যুয়েল নিয়ে হাজির হন। এর পরপরই তিনি টিভি সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়াতে দীর্ঘ বিরতি পর ভক্তদের উপহার দেন নতুন সিনেমা ‘গ্রোন আপ’। যেখানে তিনি কৌতুকধর্মী অভিনয়ের মাধ্যমে বাজিমাত করেন। এরপর আর বিরতি হবে না। বিভিন্ন চরিত্র নিয়ে প্রতি বছর তাকে বিভিন্ন সিনেমায় দেখা যাবে। কখন থ্রিলারে, কখনো পুরনো ছবির সিক্যুয়েল, আবার কখনোবা সম্রাজ্ঞীর ভ‚মিকায়।
২০১৩ সালে গ্রোন আপের সিক্যুয়েল গ্রোন আপ টুতে অভিনয়ের পর ২০১৪ সালে সালমা হায়েক অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘এভারলিতে নাম ভ‚মিকায় অভিনয় করেন’। একই বছর এই সৌন্দর্যের রানী তার ভক্তদের উপহার দেন ‘সাম কাইন্ড অফ বিউটিফুল’। এতে আরো অভিনয় করেন পিয়ের্স ব্রোসনান ও জেসিকা আলবা। এখানেই শেষ নয় সালমার অভিনয় জীবন।
২০১৫ সালে তিনি অভিনয় করেন ইউরোপিয়ান ডার্ক ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘টেল অফ টেলস’-এ। এখানে তাকে দেখা যায় লংট্রেলিসের সম্রাজ্ঞীর ভ‚মিকায়। দুই বছর আগে, ২০১৭ সালে সালমা হায়েক অভিনয় করেন একটি নয়, তিন তিনটি সিনেমায়। এগুলো হলো বেয়াট্রিজ এট ডিনার, হাও টু বি এ ল্যাটিন লাভার, এবং দ্য হিটম্যান’স বডিগার্ড। যা প্রমাণ করে তার জনপ্রিয়তায় এখনো এতটুকুও ভাটা পড়েনি।
একজন অভিনেতা/অভিনেত্রীর অভিনয় তখনই সফল বলে বিবেচিত হয়, যখন তার অভিনয়ের জন্য তিনি স্বীকৃতি পান। আর সেই স্বীকৃতিটা হলো পুরস্কার ও সেই স্বীকৃতিটা হলো ভক্তদের ভালোবাসা। সালমা হয়েক এমন একজন অভিনেত্রী যিনি তার অভিনয়জীবনের তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এ দুটো পেয়েছেন সমানতালে। এবার আসি সেই গল্পে।
১৯৯৪ সালে তিনি মেক্সিকান সিনেমা ‘এল ক্যাল্লেজন দি লস মিলাগোরস’ এ অভিনয়ের জন্য ‘এরিয়েল অ্যাওয়ার্ড’ মনোনীত হয়ে প্রথম পুরস্কার জয়ের আনন্দ উপভোগ করেন। ২০০১ সালে তিনি নির্বাচিত হন ‘গø্যামার ম্যাগাজিন উইমেন অফ দ্য ইয়ার’। এ ছাড়া তিনি ‘প্রোডিউসারস গিল্ড অফ আমেরিকার সেলিব্রেশন অফ ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ডটিও জিতে নেন। ২০০৩ সালে সালমা হায়েক পরিচালক হিসেবে জিতে নেন ‘ডে টাইম ইমি অ্যাওয়ার্ড’।
তবে সালমা হায়েকের অভিনয়ের ক্যারিয়ারে বলতে গিয়ে যদি ‘ফ্রিডা’ নামক চলচ্চিত্রটির কথা না বলা হয় তাহলে অসম্পূর্ণই থেকে যাবে সব। ২০০২ সালে ‘ফ্রিডা’তে অভিনয় করেই সালমা হায়েক প্রথম লাতিন অভিনেত্রী হিসেবে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার ক্যাটাগরির জন্য মনোনীত হন, যা তার অভিনয় জীবনের একটি মাইলফলক। ফ্রিডাতে সালমা হায়েক শুধু অভিনয়ই করেননি ফ্রিডা তাকে দিয়েছে একজন সফল প্রযোজকের অনুভ‚তিও।
সালমার ফ্রিডা চলচ্চিত্রটি ছয়টি শাখায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়। এখানেই তার অর্জন শেষ নয়। তিনি পেয়েছেন ফ্রান্সের সম্মাননাসূচক ‘নাইট অফ দ্য ন্যাশনাল অর্ডার অফ দ্য লেজিওন অফ অনার’, যা খুব কম ব্যক্তিই পান।
এ তো গেল সালমা হায়েকের শুধু বড় পর্দার অভিনয় গাঁথা। এবার আসি তার ছোট পর্দা ও পর্দার পেছনের কারিগরির গল্প নিয়ে। সালমা হায়েক শুধু বড়পর্দাই মাতাননি, মাতিয়ে বেরিয়েছেন ছোটপর্দা এবং পর্দার পিছনটাও। ‘এমি’ মনোনীত সালমা হায়েকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ আগলি বেট্টি নিয়ে তিনি আসেন ২০০৬ সালে। সিরিজটি কলোম্বিয়ান টেলিনোভেলা ‘ইয়ো সয় বেট্টি লা ফেয়া’র ওপর নির্মিত।
সিরিজটি এতই জনপ্রিয় ছিল যে ২০০৬-২০১০ টানা চলেছে। এই শো’র কারণেই অভিনেত্রী আমেরিকা ফেরেরা ইমি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।
২০০০ সালে তিনি তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভেনটানারোসা প্রতিষ্ঠা করেন। অস্কারে সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র এল করোনেল নো টেইনে কুইন লি এসক্রিবা সিনেমাটি তারই প্রযোজিত। তার ক্যারিয়ারের আলোচিত মুভি ফ্রিডাও তারই প্রযোজনায় নির্মিত। অভিনয়জীবনের বাইরে অভিনেতাদের যে ব্যক্তিজীবন রয়েছে সেখানেও থাকে কিছু গল্প। সালমা হায়েকের সেই গল্পটি অনেকটা এমন। ২০০৭ সালে এই অভিনেত্রী ফ্রান্সের ধনকুবের ফ্রানসোইচ হেনরির সঙ্গে তার পরিণয়ের তথ্য নিশ্চিত করেন। যার পরপর তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিয়েও সবার ধোঁয়াশা কাটে। এ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে হায়েকের কোল আলো করে আসে হায়েক পিনাউল্টের কন্যা সন্তান ভ্যালেন্টিনা পালোমা পিনাউল্ট।