তৃতীয় দিনেও দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ

আগের সংবাদ

কুর্তি, কেপ ও টপসে নতুনত্ব নিয়ে আইকনিক

পরের সংবাদ

আ.লীগ চায় জয়ের ধারাবাহিকতা : বিএনপির আশা আসন পুনরুদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৩, ২০১৮ , ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ২৩, ২০১৮, ১২:০৬ অপরাহ্ণ

পাবনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনী মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে থাকে। চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ আসনে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে একবার বিএনপি প্রার্থী জিতলে পরেরবার জিতেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রায় ডজন খানেক নেতা। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে অন্য দলগুলোর তেমন কোনো অবস্থান নেই। দুই দলের ভোটও প্রায় সমান। মেরিন একাডেমি, বিল গাজনা প্রকল্প, ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর রেললাইন, পাকশী থেকে কাজিরহাট মিনি বিশ্বরোড, সাতবাড়িয়া টু চিনাখড়া রাস্তাসহ ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ করায় আওয়ামী লীগের জেতার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন ভোটাররা। দলীয় মনোনয়নের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। কাজেই সবার দৃষ্টি দলীয় মনোনয়নের দিকে। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে যাকেই মনোনয়ন দিক ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
পাবনার সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পাবনা-২ আসন। এ আসনে ভোটার রয়েছেন প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার। ১৯৯১ সালে
এ আসনে আ.লীগের আহম্মদ তফিজ উদ্দিনকে ১৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পান বিএনপির প্রার্থী ওসমান গণি খান। পরেরবার ১৯৯৬ সালে মাত্র ১ হাজার ৫০০ ভোটের ব্যবধানে নৌকার তফিজ উদ্দিনের কাছে পরাজিত হোন ধানের শীষের ওসমান গণি। ২০০১ সালে দুদলেরই প্রার্থী পরিবর্তন হয়। সেবার আ.লীগের মির্জা আব্দুল জলিলকে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার নতুন প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের কাছে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হেরে যান সেলিম রেজা হাবিব। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আজিজুল হক আরজু বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেনÑ বর্তমান এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ সভাপতি মির্জা আবদুল জলিল, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য আশিকুর রহমান খান সবুজ ও কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইমরান সিরাজ স¤্রাট, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, ড. মজিবর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা আব্দুল মতিন,আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজ খান।
এদিকে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ওহাব। এই গ্রæপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বর্তমান এমপি আরজু। অপর অংশের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন। শাহীন গ্রæপের সঙ্গে সম্পৃক্ত কামরুজ্জামান উজ্জ্বল। গত ৩১ মে সম্মেলন ছাড়াই সুজানগর উপজেলা ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হওয়ার পর আওয়ামী রাজনীতির হিসাব পাল্টে গেছে বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ। আওয়ামী লীগের এ দুই কমিটি এবং উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর মাঠে কামরুজ্জামান উজ্জ্বলের অবস্থান বেশ শক্তিশালী হয়েছে। ওহাব ও শাহীন দুজনই বলেছেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি রয়েছে।
এ আসনে এবারো প্রার্থী হতে চান বর্তমান সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু। তিনি এলাকায় বেশ উন্নয়ন করলেও নেতাকর্মীদের কাছে টানতে পারেননি। কর্মীদের অভিযোগ, তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। এ ছাড়া তিনি এলাকায় কম থাকেন। তা ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে সুজানগরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। নেতাকর্মীরা বলেন, আব্দুল ওহাব এমপি আরজুর সঙ্গে না থাকলে মাঠে তার কোনো লোকই থাকবে না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য কামরুজ্জামান উজ্জ্বল বর্তমানে মাঠের একজন ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা। উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, উপজেলা ছাত্রলীগসহ অধিকাংশ কমিটিতে তার রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী।
বাবার মতোই মাঠে ও মানুষের সঙ্গে মিশে প্রতিনিয়ত কাজ করেন সাবেক এমপি আহমেদ তফিজ উদ্দিনের ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির। তিনি গ্রæপের ঊর্ধ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। আশিকুর রহমান সবুজের বাড়ি নির্বাচনী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে হওয়ায় এবং তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগ নেতা একাধিকবার নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় নির্বাচনে তিনি সুবিধা পাবেন বলে কেউ কেউ জানান। সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য সবুজ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় এবং নিজের কাজকর্ম দিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি মির্জা আবদুল জলিলের রয়েছে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এ উপদেষ্টা এবার মনোনয়ন পাবেন আশা করে নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইমরান সিরাজ স¤্রাট রাজনৈতিক পরিবারের লোক এবং তার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কয়েকবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এ নেতা মাঠে নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে সমাজসেবামূলক ও দলীয় কাজ করে যাচ্ছেন।
অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মাঠে নেমেছেন বিএনপির একাধিক নেতা। প্রার্থী হতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিন, আবদুল হালিম সাজ্জাদ, সাবেক সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট আরশেদ আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসলাম মÐল, বেড়া উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি রইজ উদ্দিন ।
বিএনপির সাবেক এমপি সেলিম রেজা হাবিব এলাকায় থেকে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। দলের মধ্যে দ্ব›দ্ব থাকায় কিছুটা সমস্যা রয়েছে তার। দলের বড় একটা অংশ তার বিরোধিতা করছে।
পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আরশেদ আলম প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দল করায় তার সঙ্গে রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিবিড় সম্পর্ক।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এলাকায় কম থাকলেও তার রয়েছে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। আন্দোলন-সংগ্রামে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বেশ ভালো।
ব্যবসায়ী আবদুল হালিম সাজ্জাদ নানা সমাজসেবামূলক ও দলীয় কর্মকাÐ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে এ আসনে জামায়াতের ভোট ব্যাংক না থাকায় প্রতিদ্ব›িদ্বতায় না যেতে পারে দলটি।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ চায় আগামী নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।