বাংলাদেশে পাচারের সময় ত্রিপুরায় ২৩ মণ গাঁজা জব্দ

আগের সংবাদ

কাল জুমাতুল বিদা : মানবিক বিশ্ব গড়ার শপথ ধ্বনিত হোক

পরের সংবাদ

ট্রাম্প-কিম বৈঠক, শান্তির এই আবহ ইতিবাচক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৩, ২০১৮ , ৮:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮, ৮:১৩ অপরাহ্ণ

এই বৈঠক স্বভাবতই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে আমরা দুই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানাই। কারণ কোরিয়া উপদ্বীপের উত্তেজনা যেমন আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি শান্তির এই আবহ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে নিঃসন্দেহে।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-কিমের মধ্যে বৈঠকটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা বৈঠক শেষে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। দুই নেতা এখন নতুনভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এ ঘটনা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈঠক বিশ্ববাসীর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

মঙ্গলবার ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলা যৌথ সামরিক মহড়া তিনি স্থগিত করবেন। কারণ এটি খুবই উস্কানিমূলক। আর এই মহড়া খুব ব্যয়বহুলও। এই সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়াকে ক্ষিপ্ত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করা ৩২ হাজার মার্কিন সেনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন খুব দ্রæত পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে আশাবাদী। কিম জং বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাইট ধ্বংস করতে রাজি হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে চলা অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে বৈঠক কল্পনার চেয়ে ফলপ্রসূ হয়েছে। কেননা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ১১ প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশ দুটি কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে উত্তর কোরিয়া তার নিরাপত্তার কথা বলে পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার গড়ে তোলে, যা কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা সৃষ্টির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই নেতার বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ উত্তেজনার অবসান হবে। ১৯৪৫ সালে এক কোরিয়া ভেঙে দুই কোরিয়ার জন্মের পর থেকে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কোনোদিনও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। গত কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর অবস্থানের মুখে এই দূরত্ব মহাসমুদ্রপ্রমাণ হয়ে উঠেছিল। উত্তর কোরিয়া কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে সামরিক হামলা চালানোর প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছিলেন। ফলে দুদেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। স্বস্তির বিষয়, পরিস্থিতি সেদিকে গড়ায়নি। বরং দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের প্রস্তাব উঠলে উভয়েই এ ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তবে গত ২৪ মে ট্রাম্প হঠাৎ করেই বৈঠক বাতিলের কথা বললে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। পরে দুপক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনা করে দুই নেতাকে আলোচনার টেবিলে ফেরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম দুজনকেই একপর্যায়ে নিজ নিজ অবস্থানে অটল মনে হলেও তারা শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে আলোচনায় বসেছেন, এটি শিক্ষণীয়। এই বৈঠক স্বভাবতই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে আমরা দুই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানাই। কারণ কোরিয়া উপদ্বীপের উত্তেজনা যেমন আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি শান্তির এই আবহ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে নিঃসন্দেহে।