আফগানিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১২

আগের সংবাদ

শেষ সময়ে উপচে পড়া ভিড় জুতা স্যান্ডেলের দোকানে

পরের সংবাদ

বেড়েছে শুধু চালের দাম

বাজেটের প্রভাব নেই নিত্যপণ্যের বাজারে

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৮ , ১:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৮, ১:৪২ অপরাহ্ণ

প্রতি বছরই বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। তবে এবার বাজেট ঘোষণার পর বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখছেন না সাধারণ মানুষ। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের বাজেট ইতিবাচক। কারণ আগে-পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিসেরই দাম বাড়েনি। জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকায় স্বস্তিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে আমদানিকৃত চালের বাজারে বাজেটের হাওয়া লেগেছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। অথচ বাজারে এখন যে চাল আছে, সেটি আগেই আনা হয়েছে। আবার এবার বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির খবরও আসেনি।
গত বছর এপ্রিলের শুরুতে আগাম বৃষ্টি ও বন্যায় ফসলহানি এবং মজুদ কমে যাওয়ায় চাল আমদানিতে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। সংকট কাটিয়ে ওঠায় গত বৃহস্পতিবার চাল আমদানির ওপর আবারো ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিগত সময় বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই দামের প্রভাব পড়েছে বাজারে। এবার পুরোপুরি তার ব্যত্যয় ঘটেছে। বাজেটে না বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল তা এবার একেবারেই নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দাম যা বাড়ানোয় তা আগেই বাড়ানো হয়েছে। এখন রমজান মাস। এসব কারণেই হয়তো বাজারে বাজেটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার কোনো সিন্ডিকেট হয়নি। সতর্ক করতে বাজেটের আগেই তারা লিফলেট ছেড়েছেন বাজারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা এলেই বেড়ে যায় দাম। কারওয়ার বাজার, মতিঝিল এজিবি কলোনি বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজারে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যের দামে। তবে চাল আমদানিতে আগের শুল্কহার পুনর্বহালের প্রস্তাবের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারে। বাজেট ঘোষণার দুদিন আগে থেকেই চালের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। অথচ গত এক মাস ধরে চালের দাম ছিল পড়তির দিকে। রাজধানীর বাসাবোর বাসিন্দা শামিম হোসেন বলেন, বাজেট প্রস্তাব করা হলো বৃহস্পতিবার। কিন্তু চালের দাম বেড়েছে মঙ্গলবার থেকে।
বাজারে দেখা গেছে, গত এক মাসে রশিদ মিনিকেট চালে প্রতি বস্তায় কমেছিল ৫০ টাকা, যা বর্তমানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। মোটা ও মাঝারি চাল স্বর্ণা এবং পাইজামের দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভারতীয় চালের। ভারত থেকে আমদানিকৃত নুরজাহান চাল প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা। ৩৭ টাকার চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও। কেজিতে বেড়েছে ৪-৫ টাকা। ৪৮ টাকা কেজি ভারতীয় নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৩ টাকায়। ফকিরাপুল বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইলিয়াস জানালেন, চালে দুই-তিন টাকা করে কেজিতে বেড়েছে। রমজান মাসে চালের চাহিদা একটু কম থাকে। তাই ঈদের পরে চাহিদা বাড়লে দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
এ দিকে নিত্যপণ্যের দাম রয়েছে হাতের নাগালেই। আবার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাজেট সম্পর্কে জানে না। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার রমজান আলী জানান, ‘বাজেট কবে হয়েছে জানি না। তবে বাজারে পণ্যের দাম গত সপ্তাহে যা ছিল তার চেয়ে কিছুটা কমতি আছে। সব রকম ডালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমেছে। বাজেটে দাম বাড়ার কোনো খবর নেই। আমাদের কাছে এখনো আসেনি। আর দাম বাড়লে তা যোগ হবে নতুন চালানের সঙ্গে। পুরান মাল আগের দামেই বিক্রি হয়।
বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজ-রসুনের দামও কমেছে। কয়েকজন বিক্রেতা জানিয়েছেন, বর্তমানে চীন থেকে আমদানি করা রসুন কেজিপ্রতি ৬০ টাকা এবং দেশীয় রসুন ৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এজিবি কলোনি কাঁচাবাজরের পেঁয়াজ-রসুনের খুচরা দোকানি আবদুল জলিল জানান, গত ১০ দিন ধরে রসুনের দাম পড়তির দিকে। পেঁয়াজের দামও দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আরিফুল নামের একজন ক্রেতা বলেন, বাজেট হয়েছে। কিন্তু বাজেটের কারণে দৈনন্দিন বাজারে কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে এমন চোখে পড়েনি। বরং ডালসহ অনেক নিত্যপণ্যের দাম এখন বেশ খানিকটা হাতের নাগালে।
সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, খুচরা বাজারে এখন কচুর লতি প্রতি কেজি ৪০, বেগুন ৫০, কাঁকরোল ৪০, মিষ্টি কুমড়া ২০, পেঁপে ৩০, ঢেঁড়স ৪০ টাকা কেজি এবং জালি প্রতিটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শসা ও টমেটোর দাম কিছুটা বেড়েছে। কয়েক দিন আগে পণ্য দুটির কেজি ৫০ টাকা থাকলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়েনি কোনো মাছেরই। ইলিশ, রূপচাঁদা, পাবদা, টেংরা, কৈ, শিং ও মাগুর মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। ঈদের আগে চাহিদা বাড়লেও, বাড়েনি ছোলা, চিনি, সেমাই ও কোনো মসলার দাম। সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। গরুর মাংস সাড়ে চারশ আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা কেজিতে।
মাছ-মাংসের বাজার দর একই থাকলেও প্রসাধনী সামগ্রীর দাম অনির্দিষ্ট হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় একটি দোকান থেকে বডি স্প্রে কিনছিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী আসফিয়া। কিন্তু ২৫০ টাকার বডি স্প্রে ৩শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায় বিক্রেতাকে। আসফিয়া জানান, বাজেটে দাম বেড়েছে বুঝলাম। কিন্তু এই পণ্যগুলো তো বাজেটের আগেই এই দোকানে আগের দামে ঢুকেছে। আর বাজেটে কেবল তা প্রস্তাব করা হয়েছে, বাস্তবায়ন তো হয়নি এখনো। তাহলে কোন যুক্তিতে তারা দাম বাড়াচ্ছে। প্রস্তাব শুনেই দাম বাড়ানো তো প্রতারণার শামিল। এ বিষয়ে বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।