সালাহকে খেলা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কোচ

আগের সংবাদ

বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কা-জোনাস

পরের সংবাদ

বস্তিতে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সহযোগী বনানীর পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৮ , ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১২, ২০১৮, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

ইমরান রহমান

ইমরান রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা থেকে

রাজধানীর অন্যতম ভিআইপি এলাকা বনানী। আবার বনানী থানার মধ্যেই রয়েছে কড়াইল ও সাততলা নামের দুটি বৃহৎ বস্তি। ফলে এখানে সব ধরনের অপরাধই কম-বেশি হয়। সূত্র জানায়, কড়াইল ও সাততলা বস্তি দুটি অপরাধের স্বর্গরাজ্য। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-রাহাজানি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িতরা আস্তানা গেড়েছে ওই দুটি বস্তিতে। পুলিশের কিছু অসৎ সদস্যও জড়িয়ে গেছে তাদের চক্রে। বস্তির মাদক ব্যবসা, চোরাই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ থেকে পুলিশ প্রতিনিয়ত চাঁদা নিচ্ছে। ফলে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড। এদিকে, বনানী থানা এলাকায় অবৈধভাবে চলছে কয়েক হাজার অবৈধ অটোরিকশা। এগুলো থেকেও মাসিক চাঁদা পৌঁছে যায় থানায়। অটোরিকশার মালিক আর পুলিশের মধ্যে মধ্যস্থতা করে ‘লাইনম্যান’ দেলোয়ার। সে একটি নির্দিষ্ট টাকা থানায় দিয়ে বিষয়টি ম্যানেজ করে। থানা এলাকায় একাধিক মাদক স্পট রয়েছে বলেও অভিযাগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী ভোরের কাগজকে বলেন, এই থানা এলাকায় সব ধরনের লোকই বাস করে। বস্তিগুলোতে নিম্ন আয়ের লোক থাকায় সেখানে কিছু ক্রাইম হয়। তবে আমরা সবসময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, আমার থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো অবৈধ কাজ এবং চাঁদাবাজি হয় না। আপনি যেটা জানেন, সেটা ভুল জানেন। অটোরিকশার ক্ষেত্রে দেলোয়ারের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দেলোয়ার নামে কাউকে চিনি না। হয়তো ট্রাফিক পুলিশ এ ধরনের কাজ করতে পারে। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলুন।

গত ৯ জুন দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, থানার সামনে ঘোরাফেরা করছেন বেশ কয়েকজন দালাল। পুলিশ সদস্যরা তাদের সঙ্গে গল্প করছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। থানার সামনে লাল পাঞ্জাবি পরা এক লোকের সঙ্গে সাইফুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করতে দেখা যায়। এরপর সাইফুল ওই লোকের সঙ্গে বাইরে যান। প্রায় ৫ মিনিট আলাপ শেষে ওই পাঞ্জাবি পরা লোকটি সাইফুলকে ৫ হাজার টাকা দেন। এর কিছুক্ষণ পরে ওই লোকটি চলে গেলে সাইফুল থানায় ঢোকেন। কিসের জন্য সাইফুল টাকা নিয়েছেন তা জানা যায়নি।

অপরদিকে, জায়গা সংকট এই থানার অন্যতম সমস্যা। থানার বারান্দায় বানানো হয়েছে নারী ও শিশু ডেস্ক। বারান্দার অন্য কোণায় ডিউটি অফিসারের ডেস্ক। অস্ত্রাগারের পাশে অপারেটরের ডেস্ক। পার্কিংয়ের জায়গার অভাবে বিভিন্ন মামলায় আটককৃত গাড়ি অন্যের বাড়ির সামনে পড়ে আছে বছরের পর বছর। থানার গাড়িগুলোও অন্যদের বাড়ির সামনে রাখা হয়। মোটরসাইকেল রাখারও তেমন জায়গা নেই। সড়কের অর্ধেকটা দখল করে রাখা হয় পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেল। ফলে ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় প্রায়ই।

থানা সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি মাদক ও ২টি নারী নির্যাতন মামলা। ফেব্রুয়ারির ২৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি মাদক ও ১টি ধর্ষণ মামলা। মার্চের ৪২টি মামলার মধ্যে ২৮টি মাদক ও ১টি ধর্ষণ, এপ্রিলের ৫৩টি মামলার মধ্যে ৩৫টি মাদক ও ২টি শিশু নির্যাতন এবং মে মাসের ৫৭টি মামলার মধ্যে ৩৮টি মাদক ও ১টি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।

থানার কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর মহাখালী-গুলশান রোড, নিউ এয়ারপোর্ট রোড, আর্মি স্টেডিয়াম, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী লেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি, মহাখালী, হাজীবাড়ী, টিবি গেট, আমতলী, বনানী মডেল টাউন, কাকলী, সৈনিক ক্লাব ও চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকা নিয়ে থানাটি গঠিত। থানাটিতে ১ জন ইন্সপেক্টর ইনচার্জ (ওসি), ২ জন ইন্সপেক্টর, ২০ জন এসআই, ৩০ জন এএসআই অর্ধশতাধিক কনস্টেবল রয়েছে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা