ডেমরায় ‘ফিক্সড প্রাইজে’মেলে পুলিশি সেবা

আগের সংবাদ

ইফতারিতে চিংড়ি-নুডুলস

পরের সংবাদ

আ.লীগে একক প্রার্থী বিএনপিতে একাধিক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১১, ২০১৮ , ৪:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১১, ২০১৮, ৪:৫১ অপরাহ্ণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে মাগুরা-২ আসনের সাবেক এমপি বিএনপি নেতা কাজী সালিমুল হক কামালকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনে করে তার পক্ষের নেতাকর্মীরাও অনুরূপ কর্মকা চালাচ্ছেন।
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলা এবং সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকে। ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর এ আসনের চারবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি আছাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে তৎকালীন শাসক দল বিএনপির
প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয় আসনটি।
সেই উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক আন্দোলন করলে বিএনপি ক্ষমতা হারায়। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট বীরেন শিকদার কাজী সালিমুল হককে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামাল আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে পরাজিত করে এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এডভোকেট বীরেন শিকদার ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট বীরেন শিকদার আবারো এমপি নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন বলে এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে দাবি করেন বীরেন শিকদার।
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বীরেন শিকদার বলেন, জনগণের সঙ্গে সব সময়ই তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি সপ্তাহে দুদিন নির্বাচনী এলাকায় এসে জনগণের সুখ-দুঃখে সময় দেয়াসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি জানান, মহম্মদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মধুমতী নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণ, বিশেষত শালিখা উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া মহম্মদপুর উপজেলাসহ সদরের চার ইউনিয়নের ৮৫ ভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় আরো চারটি সেতু নির্মাণ, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যতবার আস্থা রেখেছেন, ততবার আমি সেই আস্থা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। এসব ছাড়াও জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে মাগুরা মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামকে আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে। মূল স্টেডিয়ামের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে শেখ কামাল মিনি স্টেডিয়াম। এ ছাড়া খেলাধুলার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ মার্চ মাগুরার জনসভায় শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও শালিখা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তা ছাড়া মহম্মদপুর ও মাগুরা সদরেও মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তিনবার মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনবারই এলাকার জনসাধারণ আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আবারো মনোনয়ন পেলে জয় লাভ করে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুন্ডু ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চু, মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মান্নান মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন তারা সবাই।
অপরদিকে, বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ২০০১ সালে মাগুরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবরের কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট শ্রী বীরেন শিকদারের কাছে পরাজিত হন।
এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হলেও মাগুরা-২ আসনই তার মূল আসন। এ আসনের মানুষ তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন। তিনিই এ আসনে মনোনয়ন পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তার। এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রায়ই ঢাকা থেকে মহম্মদপুর-শালিখাসহ নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
অপরদিকে কাজী সালিমুল হক কামাল এলাকায় না এলেও তার পক্ষে নেতাকর্মীরা কাজ করে চলেছে। তবে তাদের ধারণা আগামী নির্বাচনে কাজী কামালই বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।