বিশ্বকাপের উত্তেজনা তুঙ্গে

আগের সংবাদ

ভারতে ধূলিঝড় ও বজ্রপাত নিহত ২৬

পরের সংবাদ

ব্যাংক খাতে করপোরেট কর কমানোর সুবিধা পাবে না সাধারণ গ্রাহক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১০, ২০১৮ , ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুন ১০, ২০১৮, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

ব্যবসায়ীদের করপোরেট করহার কমানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আড়াই শতাংশ কর কমানো হয়েছে আর্থিক খাতে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সাধারণত করপোরেট কর কমানো হয়। কিন্তু অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রে না কমিয়ে শুধু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই করহার কমানোকে ব্যাংক মালিকদের নতুন করে সুযোগ নেয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, ব্যাংক খাতে এই করহার কমানোতে মালিকদের আরো অনিয়মের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এতে ঋণগ্রহীতা ও আমানতকারীদের কোনো ধরনের লাভ হবে না। করপোরেট কর কমানোর আগে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্তারোপ করা দরকার ছিল। এ ছাড়া করপোরেট কর কমানোর বিনিময়ে ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর শর্ত দেয়া যেত। এতে আমানতকারী ও গ্রাহক উপকৃত হতেন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ৪০ শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ কমিয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ৪০ শতাংশই বহাল রয়েছে। শুধু আর্থিক খাতে এই করহার কমানোকে ভিন্নভাবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঢালাওভাবে আড়াই শতাংশ করপোরেট কর কমানো ঠিক হয়নি। পারফরমেন্সের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এ ছাড়া সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তা বিবেচনায় নেয়া উচিত। যাতে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে চাপ সৃষ্টি না হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করপোরেট কর কমানোর কথা আলোচনায় ছিল। কিন্তু ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমানো হয়েছে। এই খাতে সুশাসন নিশ্চিত না করে এই করহার শুধু ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জন্য কেন কমানো হলো তা সুস্পষ্ট নয়। করপোরেট হার সাধারণত কমানো হয় বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ করার জন্য। দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় ব্যাংক খাতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে লুটপাট চলছে, যার সঙ্গে স্বয়ং ব্যাংকের পরিচালকরা জড়িত। এই অবস্থায় শুধু ব্যাংক খাতে করপোরেট করহার কমানোর যৌক্তিকতা নেই।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যাংক মালিকদের চাপের মুখে কি এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে? নাকি ব্যাংক মালিকদের সুবিধা দিতে বাজেটে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে তা মোকাবেলায় বাজেটে কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। বরং নতুন করে ব্যাংকের আমানতের একটা স্তরের ওপর সারচার্জ বসানো হয়েছে। এতে করে ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাবে এবং ব্যাংকের ঋণের সুদের হার বেড়ে যাবে।
বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ব্যাংক খাতের করপোরেট ট্যাক্স আড়াই শতাংশ কমানোর সমালোচনা করে বলা হয়, ব্যাংকের লুটপাট ঠিক না করে কর কমানো উচিত হয়নি। এতে মালিকপক্ষ এককভাবে লাভবান হবে। ঋণগ্রহীতা এবং আমানতকারী কোনো সুবিধা পাবে না।
সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত না করে করপোরেট কর কমানো হয়েছে। কথা হচ্ছে, ব্যাংকগুলো চাইল, আর করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হলো। করপোরেট ট্যাক্স কমানোর আগে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্তারোপ করা দরকার ছিল। করপোরেট ট্যাক্স কমানোর বিনিময়ে ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর শর্ত দেয়া যেত। একদিকে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার বাড়াচ্ছে, বিপরীতে আমানতের সুদের হার কমাচ্ছে। এতে ব্যাংকের স্প্রেডহার ব্যবধান বেড়ে যাছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, সাধারণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে করপোরেট কর কমানো হয়। দেশে ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ থাকার পর এ খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না এনে করপোরেট কর হার কমানো উচিত হয়নি। এতে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক মালিকদের আরো নতুন করে সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দেয়া হয়েছে।