টয়লেটে মোবাইল নোটিফিকেশন দেখেন ৬৯%

আগের সংবাদ

ফাঁস হলো পিক্সেল ৩ এক্সএলের ছবি

পরের সংবাদ

আ.লীগ চায় আসন ধরে রাখতে : বিএনপির চেষ্টা ফিরে পাওয়া

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১০, ২০১৮ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১০, ২০১৮, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

পাবনা-১ আসন থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। এ জন্য আসনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ডজনখানেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। মহাজোটে শামসুল হক টুকু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদের মধ্যে চলছে মাঠ দখলের প্রতিযোগিতা। ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের নিজামীপুত্র নাজিব মোমেন ও বিএনপির মঞ্জুর কাদের মাঠে না থাকায় জোটের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ বেশ জোরেশোরে, বিএনপি সাদামাঠা অবস্থায় আর জামায়াত চুপিসারে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। সবার দৃষ্টি এখন দলীয় মনোনয়নের দিকে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার অংশ নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন। সাঁথিয়ার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৮২। এখানে
আওয়ামী লীগের ভোট বেশি। বেড়ার ১টি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়নে ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৫৩৪ জন। এখানে ভোট বেশি বিএনপির।
পাবনা-১ আসনটিকে বরাবরই ভিআইপি আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসন থেকে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনিই সরকারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পান অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (তথ্য প্রতিমন্ত্রী), মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের (পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী), মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (শিল্পমন্ত্রী), এডভোকেট শামসুল হক টুকু (স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী)। এসব কারণে বরাবরই পাবনা-১ আসনের দিকে সবার নজর থাকে একটু আলাদা করে এবং গুরুত্বও বহন করে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় আসনটি ধরে রাখতে এবং বিএনপি চায় হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে।
এ আসনে কোনো জোটের একক অবস্থান না থাকায় একাধিকবার বিজয়ী হয়েছে উভয় জোটই। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নিজামী ও বিএনপির মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ২০০১ সালে আবু সাইয়িদকে হারিয়ে জয় পান ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নিজামী। ২০০৮ সালে নৌকার নতুন মাঝি হয়ে এডভোকেট শামসুল হক টুকু জামায়াতের আমির নিজামীকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে জামায়াত-বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সেবার নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ওই নির্বাচনে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান টুকু।
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাকসুর সাবেক জিএস ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ওবায়দুল হক, সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন স্কাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সরদার সোহেল মাহমুদ।
এদের মধ্যে বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা তার সঙ্গে কাজ করছেন। তার সমর্থকদের দাবি, দলের মধ্যে তিনিই যোগ্য প্রার্থী।
সংস্কারপন্থি হওয়ায় এ আসনে আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নবম ও দশম সংসদে মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তবে আসনের অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী তার হাতে গড়া । ফলে নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করার বিশাল কর্মিবাহিনী রয়েছে। এসব নেতাকর্মীর সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। বেশ কিছু দিন পর অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রচার নিয়ে মাঠে নামলে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যায়। তার সমর্থকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে সাইয়িদই হবেন যোগ্য প্রার্থী।
বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ওবায়দুল হক বেশ কিছু সমাজসেবামূলক কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার সমর্থকরা মনে করেন, দল তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য যাদের মনোনয়ন দেবে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ওবায়দুল হক।
অপরদিকে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও এমপি মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, বিএনপির সহযোগী সংগঠন কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজি ইউনুস আলী, কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও ধোপাদহ ইউনিয়নের পর পর দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দীন খান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, খাইরুন নাহার মিরু, বিএনপি নেতা সাংবাদিক আব্দুল আজিজ । এ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও মানবতাবিরোী অপরাধে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মমিন, বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো এলাকায় আসেননি নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে। তবে জামায়াত অনেকটা চুপিসারে কার্যক্রম চালালেও খবর নেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের। ফলে হতাশ দলীয় নেতাকর্মীরা।
জাতীয় পার্টির তেমন অবস্থান নেই এ আসনে। পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় তাঁতী পার্টির সভাপতি সরদার শাহজাহান। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির নেতা নাসির উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে।