নতুন গানে মাতবে ঈদ

আগের সংবাদ

চোট পেয়ে ছিটকে গেলেন সার্জিও রোমারো

পরের সংবাদ

শতাধিক কারখানা

দেশি বিদেশি ৩০ জালিয়াত চক্রের নিয়ন্ত্রণে জাল টাকার বাজার

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৯, ২০১৮ , ২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ৯, ২০১৮, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

রাজধানীসহ সারা দেশে শতাধিক জাল টাকার কারখানা রয়েছে। র‌্যাব, পুলিশের নিয়মিত অভিযানে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানার সন্ধান মিলেছে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি ৩০টি জালিয়াত চক্র জাল টাকার পাশাপাশি বিদেশি জাল মুদ্রা তৈরি করছে। এই চক্রে পুরুষদের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল নারী চক্র। ছোট ছোট ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠছে জাল টাকা ও মুদ্রা তৈরির কারখানা। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে জাল টাকা তৈরি চক্র সরব হয়। লেনদেন বেড়ে যাওয়ার সুযোগে তারা জাল টাকা ছড়িয়ে দেয় বাজারে। সাধারণত ১ হাজার ও ৫শ’ টাকার নোট তারা জাল করে আসছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, কার্টিজ পেপার, নিরাপত্তা সুতা, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের জাল স্বাক্ষর, দেশি-বিদেশি মুদ্রাকরের ডাইস, কার্টিজ পেপার ও কেমিক্যাল সব মিলিয়ে অত্যন্ত সূক্ষভাবে তারা তৈরি করছে এসব। গত এক দশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জাল টাকা ও রুপি এবং ডলার তৈরির

যেসব কারখানা মিলেছে সেসব স্থানে মিলেছে মেশিনারিজ। আটকের পরও আইনে ফাঁক গলিয়ে অনেকে আদালতের মাধ্যমে জামিনে ছাড়া পেয়ে একই কাজ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এদেশে ভারতীয় রুপি জাল চক্রের সন্ধান মেলায় সে দেশের একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এদেশে এসে খোঁজখবর করেছেন। এ নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দুদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। নিয়মিত বৈঠক চলছে।

সূত্র মতে, পাকিস্তান, ভারত ও আফ্রিকান নাগরিকসহ ৩০টি জালিয়াত চক্র এখন জাল টাকা তৈরি করছে। রাজধানীর জাল টাকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন ইব্রাহিম নামে একজন। জাল টাকা তৈরি করেন জাকির মাস্টার ও কাওছার, কল্যাণপুরের নার্গিস আক্তার, শারমিন আক্তার, সোহেল, সাগর, রোজিনা, মিরপুরের জাকির গ্রুপ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও বাসাবো এলাকায় লোকমান গ্রুপ, পুরনো ঢাকায় ইমন গ্রুপ, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় কাওসার গ্রুপ, নুরুজ্জামান, সগীর আলী, মোস্তফা চিশতী এবং মাহবুব, লালবাগের শহীদনগর এলাকা থেকে জাল নোটের কারবারি আলম মিয়া ও আলমগীর, শ্যামপুরের জুরাইন রেলগেট এলাকা থেকে মান্নান মুন্সিসহ কমপক্ষে ১০৯ জন পুরুষ ও নারী মিলে জাল টাকা তৈরি এবং বণ্টনে সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তারা জাল নোট বিক্রি করে ৬০ ভাগ কমিশনে। অর্থাৎ কারখানা থেকে একশ টাকার একটি জাল নোট বিক্রি করা হয় ৪০ টাকায়, ৫শ টাকার নোট ২শ টাকায় ও এক হাজার টাকার জাল নোট বিক্রি হয় ৩শ টাকায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি দল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি জাল টাকা এবং টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ জাল চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেনÑ রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার ওরফে রাজা ওরফে রাজু, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবনী। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি জাল টাকার নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম একটি কালো রংয়ের এসার ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, ইপসন ব্র্যান্ডের কালো রংয়ের দুটি কালার প্রিন্টার, এ ফোর সাইজের এক পাতার জাল টাকার প্রিন্টকৃত ১৬টি পাতা, স্ক্রিন বোর্ড ১০টি (যার সাহায্যে জাল নোটে জলছাপ হলগ্রাম লেখার প্রিন্ট দেয়া হয়)। স্ক্রিন বোর্ডের একটি পিঁড়ি, জাল টাকা তৈরি করার আইপিআই কালির সাদা প্লাস্টিকের কৌটা ২৭টি, আইপিআই কালির লাল টিনের কৌটা ৮টি, পিভিসি মিডিয়াম প্রিন্টিং ইন্ক একটি ব্যবহৃত খালি কৌটা, গোল্ড মিডিয়ার কালির সাদা প্লাস্টিকের কৌটা দুটি, কালার কার্টিজ ৩০০টি ও জাল টাকা তৈরির জন্য ব্যবহৃত সুতা তৈরির ৩টি রোল উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, জাল টাকার তৈরির মূলহোতা গ্রেপ্তারকৃত রফিক প্রথম জীবনে নোয়াখালীর ছগির মাস্টার নামক এক ব্যক্তির সহযোগী হিসেবে জাল টাকা তৈরি করত। এক পর্যায়ে সে নিজেই সরঞ্জামাদি ক্রয় করে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন বৌবাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কার্যক্রম শুরু করে।

গ্রেপ্তারকৃত জাকির জাল টাকার তৈরির উদ্দেশ্যে বিশেষ ধরনের কাগজে বিভিন্ন রকমের জলছাপ এবং নকল নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করত। এক লাখ জাল টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা, পরবর্তী সময় তা পাইকারি বিক্রেতার কাছে ১ লাখ টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পাইকারি বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ২০-২৫ হাজার টাকা, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকা এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকা সমমূল্যে অর্থাৎ আসল এক লাখ টাকায় বিক্রয় করে। দেবদাস বলেন, ঈদ উপলক্ষে এই চক্র বাজারে প্রায় ২ কোটি টাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল।

এর আগে গত ৩০ মার্চ গাজীপুর চান্দনার সি ৬৮১ নম্বর বাসার ৪র্থ তলা থেকে জেলা ডিবি পুলিশ ৫ লাখ ৮৪ হাজার জাল টাকাসহ শামীম ও জাহিদ নামে দুজনকে আটক করে। ২৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা দক্ষিণ সস্তাপুর থেকে ৪২ লাখ টাকাসহ মামুন ইসলাম (২১) ও কমল বেগমকে (৩২) আটক করে র‌্যাব। ডেমরা ও কামরাঙ্গীরচর থেকে জালাল, শান্তা ওরফে শাবানা, মাকসুদা, লিমা, রহমান, খালিকুজ্জামান, বাবু, সুজন ও কামাল মাস্টার নামে ১০ জনকে ২ কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার জাল টাকা, ৮৮ হাজার ভারতীয় রুপি ও ৮ কোটি টাকার টাকা ও রুপি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।