চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

আগের সংবাদ

নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের গোলটেবিল বৈঠক

পরের সংবাদ

আর্থিক খাতের সংস্কার বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৯, ২০১৮ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুন ৯, ২০১৮, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাজেটের আকারও। তুলনামূলক বাজেটের আকার খুব বেশি বড় না হলেও আর্থিক খাতের যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছে সেসব বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক খাতে আড়াই শতাংশ করহার কমানো হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন মালিকরা। সুবিধাবঞ্চিত হবেন আমানতকারী ও গ্রাহকরা। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না এনে করহার কমানোর কারণে অন্য কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ থাকবে না। এ ছাড়া আবাসনের ক্ষেত্রে ছোট এবং বড় ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে সমভাবে ২ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা ছোট ফ্ল্যাট কিনবেন তারা দেবেন ২ শতাংশ আর যারা বড় ফ্ল্যাট কিনবেন তারা একই কর দেবেন- এই পদক্ষেপ মোটেই ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঢালাও আড়াই শতাংশ করপোরেট কর কমানো ঠিক হয়নি। পারফরমেন্সের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এ ছাড়া সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা বিবেচনায় নেয়া উচিত। এ ছাড়া ব্যাংকিং কাঠামোতে যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে তা বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটের ভালো দিক হলো- চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করা। চাল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ও ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও দেশীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াত দেয়া হয়েছে। এতে দেশি পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে। ভোক্তার চাপ কমে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল ব্যয়ের একটা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এতে আয়ের প্রধান খাত রাজস্ব আহরণ একটু কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ যে পরিমাণে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সে পরিমাণে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। এক্ষেত্রে একটা ঘাটতির আশঙ্কা রয়েই যায়। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে কোনো ধরনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি কৌশল নেই বলে মনে করেন

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ প্রকল্পে অব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু কারণে বাজেটে বরাদ্দ দেয়া অর্থের ব্যবহার হয় না।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে ছোটখাটো সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে। তাও সুস্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বাস্তবায়নে আরো বড় বড় সমস্যা রয়েছে যেগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। তবে বাজেটে বিদেশি অর্থায়নের যে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে তা অর্জনযোগ্য। তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য নয়। তা ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে ভোগ, আয় ও সম্পদের বৈষম্য দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়েও সংশয় রয়েছে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা