প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেলো বাংলাদেশ এসসি-ওয়ারী

আগের সংবাদ

প্রতিটি পোস্টে নজর রাখছে ১৫ হাজার ‘ফেসবুক পুলিশ’

পরের সংবাদ

জেল থেকে বের হয়ে মনে হচ্ছে, ভেতরেই ভালো ছিলাম: গয়েশ্বর

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০১৮ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২২, ২০১৮, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশে পরিবর্তন হবেই। এই পরিবর্তনে আমাদের ভূমিকা কতটুকু থাকবে সেটা বিষয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন। আর তখনই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হতে পারে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম. শামসুল ইসলাম ও ২০ দলীয় জোটের শরীক জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণসভায় গয়েশ্বর এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘জেল থেকে বের হওয়ার পর মনে হচ্ছে, ভেতরেই ভালো ছিলাম। কারণ বের হয়েও তেমন কিছু করতে পারছি না। আমরা ভয়ের কারণে কথা বলি না। জেলখানায় বসে দেখলাম, আমাদের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি মনে করি না শেখ হাসিনা অনেক শক্তিশালী। তবে তার পেছনে যে শক্তি কাজ করে অনেকে বলেন ইন্ডিয়ার কথা। অনেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার কথাও বলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা আর ভারতের মধ্যে তো ভালো সংসার চলছে। সেই সংসারে ভাঙানি দেওয়া কি ঠিক হবে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও ভারতের সংসারে ভাঙানি দেওয়ার চেষ্টা থেকে বেরিয়ে আমাদের উচিত হবে, ভারতের মুখ থেকে এ কথা বের করা যে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে কি না? তারা মনে করে কি না যে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের মালিক। যদি সেটা মনে করে তাহলে দেশের মানুষের সব থেকে অপছন্দের মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ থেকে তাদের বিরত থাকা দরকার।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু তাই বলে খবরদারি কেন করবে? আমাদের দেশের সরকার কে হবে, তা জনগণ পছন্দ করবে। ভারতের সরকার তো সে দেশের জনগণ পছন্দ করে। সেটা তো শেখ হাসিনা পছন্দ করে দেয় না। তাই ভারতকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে তারা তাদের নীতি পরিবর্তন করবে কি না।’

খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “খুলনা নির্বাচন আমি নিজে মনিটরিং করেছি।” সত্য কথা বলেছেন। আবার বলেছেন, “আমার ভাই শেখ হেলালও মনিটরিং করেছে।” তার মানে ইসির ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আমাদের একটা বার্তা দিয়েছেন। এটা বুঝতে পারলে ভালো, না বুঝতে পারলে আমাদের বিপদ আছে।’

তদবির ও তোষামোদ করে পদ পাওয়া যায় কিন্তু জনগণের সালাম পাওয়া যায় না মন্তব্য করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সুতরাং কাজে নেমে পড়ুন। কাজ করলে সালাম পাওয়া যাবে। তাতে পদ লাগবে না।

সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহিদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ।