গাজীপুর কি খুলনা হবে?

আগের সংবাদ

প্রজন্ম ভাবনা: আজ ও আগামীর

পরের সংবাদ

দূষণ ও দখলমুক্ত করার নির্দেশ

নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যানের হালদা ও কর্ণফুলী পরিদর্শন

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২০, ২০১৮ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২০, ২০১৮, ১০:২২ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত কর্নফুলী নদীর দখল ও দূষণ পরিস্থিতি সরেজমিন দেখে ক্ষোভ-দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি অবিলম্বে এসব দখলদার ও নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদীর অবৈধ দখল, দূষণ কোনোভাবেই সরকার বরদাশত করবে না।

গতকাল প্রায় সারাদিনই তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রথমে হালদা নদীর বিভিন্ন এলাকা এবং পরে কর্নফুলী নদীর বিভিন্ন এলাকার দখল-দূষণের অবস্থা পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রামের এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ নদী পরিদর্শন শেষে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ বেলা ১১টায় সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নদী রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায়ও নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বেশ কিছু নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

হালদা নদীসহ পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণাকারী শিক্ষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া সারাদিনই ছিলেন এই কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য অমূল্য সম্পদ হালদা নদী রক্ষার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি ইতোমধ্যেই একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে ২৩টি সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা চিত্রের চেয়েও হালদার দখল-দূষণের বাস্তব চিত্র আরো ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হাওলাদার। ক্রমন্বয়ে নদী দখল বাড়ছে। সুইসগেট যেগুলো আছে সেগুলো ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। খন্দকিয়া খালের মাধ্যমে যেভাবে দূষিত পানি হালদায় ঢুকছে তা পোনা উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। এসব থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মুজিবুর রহমান হাওলাদার।

সারা দেশেই নদী ও নদী তীরবর্তী জায়গা জরদখলকারীরা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, অবৈধ দখলদাররা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এখানেও যেটুকু দেখেছি তার ব্যত্যয় ঘটেনি। স্থানীয় প্রশাসন হালদাপাড়ের সব ইটভাটা বন্ধ করে দিলেও একটি মাত্র ইটভাটা বন্ধ করতে পারেনি। ওই ইটভাটার মালিক একটি রাজনৈতিক দলের পদস্থ ব্যক্তি। আমরা তাকে কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়েছি, দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি যেন ইটভাটা সরিয়ে নেন।

এর আগে সকালে মদুনাঘাট থেকে স্পিডবোটে দক্ষিণ মাদার্শা, উত্তর মাদার্শা ঘুরে মোহরা, কালুরঘাটে গিয়ে পরিদর্শন শেষ করেন তিনি। হালদা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন মুজিবুর রহমান হাওলাদার। এ সময় কমিশনের সদস্য মো. আলাউদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরীয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডিয়ার মেজর নুর জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুন্নেছা শিউলি উপস্থিত ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম বন্দরের সভাকক্ষে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার।