তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হবে: কাদের

আগের সংবাদ

ত্যাগ না করলে অর্জন করা যায় না : ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

সেলিব্রেটিং হ্যাপি মাদারহুড: জার্নি অব ‘আপনজন’ এম-হেলথ সার্ভিস

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১১, ২০১৮ , ৯:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১১, ২০১৮, ৯:১০ অপরাহ্ণ

মোবাইল ফোন ভিত্তিক তথ্যসেবা কার্যক্রম ‘আপনজন’- এর সাফল্যকে কেন্দ্র করে, ডিনেট বৃহস্পতিবার ১০ মে বিকেলে রাজধানীর হোটেল ‘লা ভিটা লেকশোর’ (লা ভিটা হল)-এ “সেলিব্রেটিং হ্যাপি মাদারহুড: জার্নি অব ‘আপনজন’ এম-হেলথ সার্ভিস” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রায় ৬ বছরের পথপরিক্রমা শেষে, বর্তমানে ২০ লক্ষেরও বেশি গর্ভবতী ও নবজাতক শিশুর মা এবং তাদের স্বজনদের ‘আপনজন’ সেবা কর্মসূচীর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে এতো বড় সাফল্য উদযাপনের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএআইডি, ওপিএইচএনই’র ডেপুটি ডিরেক্টর আরিয়েলা ক্যামেরা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা চিলড্রেনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান, মা মণি হেল্থ সিষ্টেমের ষ্ট্রেংদেনিং এর চিফ অব পার্টি জোবি জর্জ। এছাড়াও ডিনেটের সিইও মো. সিরাজুল হোসেন এবং আপনজনের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ড. অনন্য রায়হান।
বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এবং গর্ভবতী ও নবজাতক কাছে মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রবর্তিত মোবাইল ফোন ভিত্তিক তথ্যসেবা কার্যক্রম ‘আপনজন’ ডিসেম্বর ১৮, ২০১২ তারিখে যাত্রা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা USAID এর অর্থায়নে MAMA (Mobile Alliance for Maternal Action) কর্মসূচীর আওতায় Johnson & Johnson, MHealth Alliance, UN Foundation ও Baby Center এর সহযোগিতায় একটি আন্তর্জাতিক পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে এই সেবাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘একসেস টু ইনফরমেশন’ কর্মসূচী এই সেবার আনুষ্ঠানিক সহযোগী। উল্লেখ্য ‘মা-মণি হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং’ প্রকল্পের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিনেট’ বাংলাদেশে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইউএসএআইডির সহযোগীতায় আপনজন সেবার আওতায় গর্ভবতি মা, নবজাতক শিশুর মা এবং তাদের পরিবারের অভিভাবক মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক পরামর্শ পেয়ে থাকেন। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ সেবা পেয়ে থাকেন।
সেভ দ্যা চিলড্রেনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, আপনজনের যাত্রা পথে পাশে থাকার জন্য আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করি। তিনি বলেন, প্রতিটি গর্ভধারন একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্ন হলো একটি নতুন ভর্বিষতের স্বপ্ন। আপনজন এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে অবিরাম কাজ করে চলেছে। আমি মনে করি আগামী দিনে আপনজন এই দেশে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা দেবার ক্ষেত্রে নেতৃত্বমূলক অবদান রাখবে।

স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন,আপনজন ও ডিনেটকে অভিনন্দন আপনজনের মতো এমন একটি চমৎকার সেবা চালু রাখার জন্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে সব পদক্ষেপ প্রথম তাদের মধ্যে আপনজন একটি অন্যতম সেবা। তিনি বলেন, ‘আজ আপনজন একটি স্বাধীন এবং স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করতে চলেছে, আমি আপনজনের ভর্বিষত যাত্রা পথের সফলতা কমনা করি। আমি বিশ্বাস করি আপনজনের অর্জনগুলো আমাদের জোরালো সমর্থনের কারনে সফল হতে পেরেছে। আমি আরো আশা করি সকল অংশিদারেরা তাদের সাহায্য সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। আমরা আপনজনের পাশে সব সময় থাকবো’

তিনি আরো বলেন, মোবাইলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ‘আপনজন’ বাংলাদেশের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে তার পেছনে আপনজনের মত উদ্যোগগুলির একটি বড় অবদান রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্রমাগত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, বিশেষত স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে। তারই অংশ হিসাবে বাংলাদেশ সরকার আপনজনের সহযোগী।

বিশেষ অতিথি, ইউএসএআইডি, ডেপুটি ডিরেক্টর অব এইচএনই আরিয়েলা ক্যামেরা বলেন, ‘আপনজন দেখিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি কিভাবে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। আপনজন যে প্লাটফর্ম তৈরী করেছে, তার ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য খাতে আরো নতুন অর্জনের সম্ভাবনা তৈরী করেছে’

ইউএসএআইডির অফিস অব পপুলেশন, হেলথ নিউট্রিশন এন্ড এডুকেশনের ডিরেক্টর ক্যারল ভাসকেজ তার শুভেচ্ছা বার্তায় জানান,

গর্ভপাত, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং টিকাদান সংক্রান্ত বিষয়গুলির উপর আপনজনের বার্তাগুলি বাংলাদেশীদের স্বাস্থ্যসেবার পরিদর্শন ও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় যত্ন গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেছে। আপনজনের সাফল্য একটি কার্যকর পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের উদাহরণ’।