বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সদরঘাট থেকে নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ

আগের সংবাদ

মেসির হ্যাটট্রিকে শিরোপার উৎসব বার্সার

পরের সংবাদ

বিদেশ থেকে কম দামে আমদানি

কুষ্টিয়ায় শত কোটি টাকার চাল নিয়ে বিপাকে মিল মালিকরা

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৩০, ২০১৮ , ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০১৮, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

 প্রায় ১০০ কোটি টাকার চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকল মালিকরা। কম দামে নি¤œমানের চাল আমদানি করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। চাল আমদানি না কমালে দেশে উৎপাদিত চালের বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। মিল মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে আর কিছু দিন চললে দেশের সব চাতাল কল বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে, কোটি কোটি টাকার পুরনো চাল গুদামে মজুদ থাকায় নতুন ধান বাজারে এলেও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মিলাররা। ফলে উঠতি বোরো ধান প্রতি মণ ২০০-৩০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৩১টি অটো ও ২৮০টি হাসকিং মিলে প্রায় ১৫ হাজার টন চাল মজুদ রয়েছে। মাসের পর মাস এসব চাল মজুদ থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন মিল মালিকরা।

আগে এ মোকাম থেকে প্রতিদিন ২০০ ট্রাক চাল বিক্রি করা গেলেও কয়েক মাস ধরে ২০ ট্রাক চালও বিক্রি হচ্ছে না। এতে অধিকাংশ মিলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় জেলার ১১ হাজার চাতাল শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার অতিরিক্ত হাজার হাজার টন চাল শুল্ক ছাড়াই আমদানি করে বাজারজাত করছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা নি¤œমানের এ চাল পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩-৪ টাকা কম দামে। ফলে দেশের বাজার পুরোটাই চলে যাচ্ছে বিদেশি চালের দখলে। এতে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার চালকলগুলো। এ অবস্থায় প্রায় ১৫ হাজার টন পুরাতন চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার মিল মালিকরা। অবিক্রীত প্রায় ১০০ কোটি টাকার চাল মাসের পর মাস গুদামে পড়ে আছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই জেলার অধিকাংশ মিল মালিক চাল উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। এ কারণে চাতালপাড়া বলে খ্যাত খাজানগরে কমেছে কুলি শ্রমিক মজুরদের হাঁকডাক। বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ১১ হাজার নারী-পুরুষ চাতাল শ্রমিক।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, ধান ক্রয় করে চাল বাজারজাত করতে মিলারদের কোটি কোটি টাকা পুঁজি খাটাতে হয়। ব্যাংকের সুদ গুনতে হয়। অথচ শুধু এলসি করে হাজার হাজার টন চাল কম দামে আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে দেশি ধান ও চালের বাজার। তিনি বলেন, প্রতি বছর এমন সময় এ মোকাম থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি চালের ট্রাক যেত। সেখানে এখন যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক। উৎপাদিত চাল গুদামেই পড়ে থাকছে। মিল মালিকরা লোকসান গুনতে গুনতে বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছেন।