সেলুলয়েডে সত্যজিতের ফেলুদা

আগের সংবাদ

বৈশাখের ছবি

পরের সংবাদ

আমার পক্ষে মূল্যায়ন করা কঠিন

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৭, ২০১৮ , ২:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৮, ২:০০ অপরাহ্ণ

স্বাধীন বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চা শুরু হয়েছিল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হাত ধরে। ১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে নাগরিক মঞ্চস্থ করেছিল বাদল সরকারের লেখা নাটক ‘বাকি ইতিহাস’। এই নাটকের মাধ্যমেই টিকেটের বিনিময়ে নিয়মিত নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। নাগরিকের জন্ম তারও পাঁচ বছর আগে ১৯৬৮ সালে। নাট্যচর্চায় ৫০ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে নাগরিক। এবার নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও স্বাধীন বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর মহিলা সমিতি মঞ্চে দলটি আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল উৎসব। এই আয়োজন নিয়ে ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছিলেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হেমন্ত প্রাচ্য

নাগরিকের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব প্রসঙ্গে জানতে চাই?
‘নব নাট্যের অভিযাত্রা’ শিরোনামে নাগরিকের সুবর্ণজয়ন্তী এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চার ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিন দিনের উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের সূতিকাগার মহিলা সমিতি মঞ্চে তিন দিনের এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে নাগরিকের কর্মযাত্রার ওপর তথ্যচিত্র দেখানো হবে। এ ছাড়া নাগরিকের বিভিন্ন প্রযোজনার উল্লেখযোগ্য অংশের মঞ্চায়ন থাকবে। এ ছাড়া পাঠ-অভিনয়, আবৃত্তি, গানের পরিবেশনা থাকবে।

বাংলাদেশে প্রথম টিকেটের বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর সূচনা করেছিল নাগরিক। এ বিষয়ে জানতে চাই?
১৯৬৮ সালে নাগরিক পথচলা শুরু করে। ১৯৭৩ সালের ফেব্রæয়ারিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে আলী যাকেরের নির্দেশনায় বাদল সরকারের লেখা ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকটির মাধ্যমে নাগরিক প্রথম টিকেটের বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর সূচনা করে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন সারাদেশেই টিকেটের বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনী হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের নাট্য ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

নাগরিকের পাঁচ দশকের পথচলা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?
আমি যেহেতু নাগরিকেরই একজন সক্রিয় সদস্য। তাই আমার পক্ষে মূল্যায়ন করা কঠিন। আমাদের কাজের মূল্যায়ন করবে দর্শক ও নাট্য বিশ্লেষকেরা। আমি শুধু বলতে চাই, বিশে^র বড় বড় নাট্যকারের নাটক রূপান্তর, অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মঞ্চে নিয়ে এসেছে নাগরিক। আমরা রবীন্দ্রনাথ, সৈয়দ শামসুল হকের লেখা নাটক যেমন মঞ্চে এনেছি। একইভাবে বার্টল্ড ব্রেশট, শেক্সপিয়রের নাটক বাংলাদেশের মঞ্চে এনেছি। নাগরিকের দেওয়ান গাজীর কিসসা নাটকের অনেক প্রদর্শনী হয়েছে। আমার নির্দেশনায় রবীন্দ্রনাথের লেখা রক্তকরবী নাটকের শতাধিক প্রদর্শনী হয়েছে। অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে নাগরিক। এটি অনেক বড় পাওয়া।

সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের ¯েøাগান ‘নব নাট্যের অভিযাত্রা’। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?
নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় কাজ করছে। আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন এই পথচলা শুরু হয়। এখন আমাদের বয়স হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের নাট্যচর্চার অভিযাত্রা চলমান থাকবে। আমরা তরুণদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাটকের বিকাশ দেখতে চাই। আগামীতে তরুণদের হাত ধরে নাগরিক আরো অনেক দূর পথ হাঁটবে।

তরুণদের নিয়ে নাগরিকের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
প্রাথমিকভাবে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই উৎসবের পর ১০ জন মেধাবী তরুণের হাত দিয়ে আমরা ১০টি প্রযোজনা মঞ্চে আনব। সেই ১০টি প্রযোজনা নিয়ে একটা বড় নাট্যোৎসব আয়োজন করব। এ ব্যাপারে সবকিছু চ‚ড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে পেশাদার নাট্যচর্চার দাবি তুলেছেন অনেকেই। আপনার অভিমত কি?
আমরা তো অনেক দিন থেকেই বলছি, নাট্যচর্চায় পেশাদারিত্ব তৈরি এখন সময়ের দাবি। টেলিভিশন মিডিয়ায় অভিনয় করলে টাকা পাওয়া যায়। থিয়েটারে জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকলে বেশিদিন টিকে থাকা কঠিন। এরই মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারাও চেষ্টা করছেন। আমরা চাই পেশাদার নাট্যচর্চা শুরু হোক। নাগরিক টিকেটের বিনিময়ে নাট্যচর্চা শুরুর মধ্য দিয়ে কিন্তু পেশাদার পথেই হাঁটা শুরু করেছে। তাই নাগরিক নিশ্চয় চাইবে, মঞ্চনাটকে পেশাদারিত্ব আসুক।

আপনাকে ধন্যবাদ।
তোমাকেও ধন্যবাদ। ভোরের কাগজের সবার জন্য শুভকামনা।