বিশ্বের চলমান পরিস্থিতি ‘বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়েছে : ভ্লাদিমির পুতিন

আগের সংবাদ

চৈত্রসংক্রান্তি আজ

পরের সংবাদ

উদ্বেগ কাটিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৩, ২০১৮ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৮, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

নববর্ষের মাসখানেক আগেই যেন এখানে হাজির হয়েছে পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের উৎসবকে বরণ করতে সচল হয়েছে শিল্পীর রং-তুলির আঁচড়। ছড়িয়েছে প্রাণে দোলা দেয়া ঢাক-ঢোলের মুখর শব্দ ধ্বনি। আর এসব কিছুর মধ্যে প্রকাশিত হচ্ছে কল্যাণের বারতা দেয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। এবারো অনুষদের চারুশিক্ষার্থী ও শিক্ষক শিল্পীদের নিবিড় প্রয়াসে বের হবে এ শোভাযাত্রা।

অশুভকে হটিয়ে মঙ্গলালোকে সিক্ত হবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। কিন্তু কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে এর ছন্দপতন ঘটে। দুর্বৃত্তদের হামলায় ছন্দপতন হয়। তবে সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে চারুকলায় প্রাণের উৎসবের শুরু হয়েছে। ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তরা মেহেরুন আজাদ বলেন, উৎসবকে সফল করতে প্রাণের আনন্দে আমরা রং তুলি হাতে এখানে দাঁড়িয়েছি। হেরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আন্দোলনের কারণে মাঝে দুদিন বিক্রি ব্যাহত হলেও এখন সবই স্বাভাবিক। বিক্রিলব্ধ টাকায় উৎসবের আয়োজনের খরচ মেটানো হচ্ছে।

উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সারা দেশেই এ উপলক্ষে উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাঝে দুদিন কর্মতৎপরতা এবং বিক্রি বন্ধ থাকলেও এখন স্বাভাবিক। বরাবরের মতো বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সব অনুষঙ্গই যুক্ত হবে নববর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে বেশি রং ছড়ানো এ আয়োজনে।

আয়োজন সম্পর্কে চারুকলার ডিন ও শিল্পী নিসার হোসেন জানান, মুক্তিযুদ্ধের পরে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ আয়োজনে সবচেয়ে বড় শক্তিটি হিসেবে কাজ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামায় প্রস্তুতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। তবে এখন সব কিছু স্বাভাবিক। বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া পহেলা বৈশাখে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করব।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব ঐতিহ্যে পরিণত হওয়া চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রাটি প্রথম যাত্রা করে ১৯৮৯ সালে। প্রথম বছরে নববর্ষ উৎসব উদযাপনকারীদের নজর কেড়ে নেয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা। প্রথম শোভাযাত্রায় ঠাঁই পায় পাপেট, ঘোড়া ও হাতির শিল্পকাঠামো। পরের বছরে চারুকলার সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এ শোভাযাত্রায়ও নানা ধরনের শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি স্থান পায়। এরপর থেকে এটা বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা নাম বদলে পরিণত হয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।