নাটোরে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

আগের সংবাদ

‘লালজমিন’-এর ১৫০

পরের সংবাদ

ডলার সংকটে অস্থির মুদ্রাবাজার

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৬, ২০১৮ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৮, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

ডলার সংকটে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানির চাপকে দায়ী করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স সে অনুপাতে না বাড়ায় তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও আমদানি ব্যয় বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। এ সময় খাদ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেলের এলসি খোলার হার উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। গেল অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।

জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। এর মধ্যে আমদানি অর্থায়নেও বড় অঙ্কের ঋণ গেছে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাংকের অর্থায়ন বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, আট মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। আমদানি ব্যয় মেটাতে কমে যাচ্ছে রিজার্ভের পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এশিয়া ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেশগুলো বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আমদানির ব্যয় বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, একটা দিক দিয়ে এতদিন আমরা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিলাম, রিজার্ভ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছিল। কিন্তু আমদানি বাড়ায় সেটা আর থাকবে না। খুব শিগগিরই রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে। এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কমলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে অনেক খরচ বাড়ছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মান অনুযায়ী, যে কোনো দেশে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান রিজার্ভ থাকলেই তাকে নিরাপদ মাত্রা ধরা হয়। বাংলাদেশে বছরে গড়ে আমদানি ব্যয় হয় ৩৫০ কোটি ডলার। এ হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৮ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এ আট মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ সময়ে পেট্রোলিয়াম তথা জ্বালানি তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা ৩২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪৫ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

এদিকে আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তি করতে ব্যাংকগুলো ডলারের যে মূল্য ঘোষণা দিচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার চেয়ে দুই টাকা পর্যন্ত বেশি রাখছে। এতে একদিকে বেড়েছে আমদানি ব্যয়, অন্যদিকে ডলার সংকটে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার।

জানা গেছে, গত বছরের জুন থেকে দেশে ডলারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বাজারে ডলার ছেড়েও সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রতিনিয়ত কমছে। এমন পরিস্থিতিতেও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগ উঠেছে।

এ দিকে বৈদেশিক বাজারে কারসাজির অভিযোগে দুই দফায় ২৬টি ব্যাংককে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ ডলার বাজারে ছাড়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক দেবাশিস চক্রবর্ত্তী বলেন, মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।