পাবনায় বজ্রপাতে ৩ কৃষকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

প্রতারণার অভিযোগে প্রেমিকের পুরুষাঙ্গ পোড়াল তরুণী

পরের সংবাদ

বাবুলের গ্রেফতারে বিউটির পরিবারে স্বস্তি

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০১৮ , ৫:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৩১, ২০১৮, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বিউটি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনায় মূল আসামি বাবুল মিয়া অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে। র‌্যাব-৯ সিলেটের একটি টিম সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার এলাকা থেকে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে তাকে গ্রেফতারের খবরে নিহত বিউটি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তারা বাবুলের ফাঁসি দাবি করেছেন। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নাগরিক আন্দোলন।

বিউটির মা হোসনা বেগম জানান, ‘বাবুলের কারণে তার মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ হয়েছিল। দুইবার নির্যাতন করেছে। এরপর তাকে হত্যা করেছে। তিনি বাবুলের ফাঁসি দাবি করেন।

বাপা সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক কর্মী তোফাজ্জল সোহেল জানান, বিউটিকে যখন প্রথম দফায় অপহরণ করা তখন তার পরিবার একটি মামলা করে। তখনই যদি আসামিকে গ্রেফতার করা হতো তাহলে তাকে হত্যার শিকার হতে হতো না। বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্যই এমনটি ঘটে চলেছে বলে তিনি মনে করেন।

সমাজকর্মী পিযুষ চক্রবর্তী জানান, এ ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এটি সমাজের প্রতিটি মানুষকে মর্মাহত করেছে। প্রথম দফায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ যদি দায়িত্ব পালন করতো তবে হত্যাকাণ্ডটি এড়ানো যেতো।

আইনজীবী মো. কামরুল হাসান জানান, প্রথমে বিউটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করেনি। ফলে সে উৎসাহিত হয়েছে। পরবর্তীতে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। সোমবার নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, স্থানীয় মোজাহের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিউটি আক্তারকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো বাবুল মিয়া। একপর্যায়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ জানুয়ারি বাবুল তাকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে গত ৪ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা করা হয়। বিউটির বাবার ভাষ্য, এ ঘটনার পর বিউটিকে লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে তার নানার বাড়িতে রেখে আসেন। ১৬ মার্চ রাত ১২টার দিকে টয়লেটে গিয়ে আর ঘরে ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ১৭ মার্চ গুনিপুর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হাওরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ।

ওই ঘটনায় ১৮ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের বাবুল মিয়া (৩২) ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে (৪৫) আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে কলম চান ও বাবুলের বন্ধু ইসমাইল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর অবশেষে শুক্রবার রাতে বাবুলকে গ্রেফতার করা হলো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম মামলার পর ধর্ষণের বিচার না হওয়ায় ওই কিশোরীকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ হাওরের বুকে ফেলে রাখা হয়। বিচার চাইতে গিয়ে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ধর্ষকের হাতে খুন হয় বিউটি।