২৩ দেশের ৫৯ কূটনীতিককে রাশিয়ার বহিষ্কার

আগের সংবাদ

ইরানের জালে বাংলাদেশের মেয়েদের ৮ গোল

পরের সংবাদ

গাজা সংঘাতে জাতিসংঘে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০১৮ , ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৩১, ২০১৮, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শুক্রবার ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজায় পূর্বঘোষিত ‘প্রত্যাবাসন যাত্রা’ কর্মসূচিতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালে ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত ও এক হাজার ৫০০ মানুষ আহত হন।

এ ঘটনার পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনি গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে এ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব সাধারণ মানুষের জান-মালের ক্ষতি হয় এমন যে কোনো ধরনের সংঘাত থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন।’ খবর: রয়টার্স, আলজাজিরা, আনাদুলু।

এছাড়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করেছে।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কুয়েতের আহ্বানে নিরাপত্তা পরিষদ রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক করে।

পরে জাতিসংঘে নিযুক্ত কুয়েতি দূতাবাস এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার ওই বৈঠকে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তাইয়ে-ব্রুক জেরিহন গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেন।

বৈঠকে অংশ নেয়া এক কূটনীতিক গাজার পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক আখ্যা দেন। তবে এই বৈঠকে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দেশটিতে শনিবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।

ফিলিস্তিন সরকার ইসরাইলি বাহিনীর উস্কানিমূলক এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে রক্তপাত থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সীমানার কাছে পাঁচটি কেন্দ্রে জড়ো হয়।

ইসরাইলের অয়াইনেট ওয়েবসাইট বলছে, বিক্ষোভকারীরা সীমান্তের নিরাপত্তা বেড়ার দিকে এগিয়ে গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীর সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে এবং টায়ার পোড়ায়। জবাবে ইসরাইলি স্নাইপাররা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি করে।

তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সীমান্তের বেড়ার কাছ থেকে ৭০০ মিটার দূরে সমবেত হয়েছিল।

আইনি সংগঠন আদালাহ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেসামরিক মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করে তারা বেসামরিক ও যুদ্ধবাজদের মধ্যে পার্থক্য করার আন্তর্জাতিক আইন নির্মমভাবে লঙ্ঘন করেছে।’

‘ভূমি দিবস’র ৪২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘প্রত্যাবাসন যাত্রা’ নামে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইল কর্তৃক ভূমি দখলের প্রতিবাদ করায় ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়।

বিক্ষোভের এলাকাকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করে সর্বাত্মক রণপ্রস্তুতি নেয়। সেখানে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ১০০ স্নাইপার নিয়োগ করে।