নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আগের সংবাদ

ভারত ছেড়ে গেলেও বলিউড প্রীতি কাটছে না পাকিস্তানি অভিনেত্রীর

পরের সংবাদ

দেশে এখন ভিক্ষুক কমে ৬ লাখ, যারা আছে তারা প্রফেশনাল- অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৯, ২০১৮ , ৬:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৮, ৬:১২ অপরাহ্ণ

তারপরও ভবিষ্যতে দেশে যাতে ভিক্ষুক না থাকে সেই চেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতিবিরোধী সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে শ্রেষ্ঠ কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যখন মানুষ নিজে থেকেই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করবে। তখন মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন হবে না, অভাবে কারও মৃত্যু হবে না, মানুষকে ভিক্ষুক হতে হবে না।

“এখন দেখেন বাংলাদেশে ভিক্ষুক বেশ কম। যারা আছে তাদের বেশিরভাগই প্রফেশনাল ভিক্ষুক এবং তাদের কিছু করা যায় না।”

বর্তমানে দেশে ছয় লাখের মত ভিক্ষুক রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “তাদেরকে কোনোমতেই ভিক্ষাবৃত্তির বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। যতই আমরা সাহায্য করি না কেন, তারা আবার ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যায়। কিছুদিন হয়ত কোথাও বসানো হল, একটা ঘরবাড়ি দেওয়া হল, এর কিছুদিন পর আসার সেই ভিক্ষায় ফিরে যায়।”

কিছু লোক সব সময় ভিক্ষা করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সেটা থাকবে। কিন্তু প্রয়োজনে ভিক্ষা, সেটা যাতে না থাকে সেই ব্যবস্থা আপনাদের সরকার, শেখ হাসিনার সরকার করে রাখছে।”

এখন অভাবে কেউ মারা যাচ্ছে, এমন চিত্র নেই দাবি করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশে ভিক্ষাবৃত্তি আর থাকবে না।

“আমার শৈশব, কৈশোর এমনকি যৌবনেও দেখেছি, বাগেরহাটে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মানুষের না খেয়ে মৃত্যু খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। এখন কোথাও না খেয়ে মারা যায় না। আমার মনে হয় বাংলাদেশে এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।”

মুহিতের বিশ্বাস, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন ‘শুদ্ধাচার কৌশল’ অনুসরণ করবে, তখন দুর্নীতির দায়ে শাস্তির প্রয়োজনও কমে আসবে।

“তখনও এন্টি করাপশন কমিশনের প্রয়োজন হবে, কারণ শুদ্ধাচারের প্রচার তখনও চালাতে হবে। কিন্তু শাস্তি দেওয়া তখন প্রধান লক্ষ্য হবে না।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মামলা এখন সংখ্যা কমে গেছে এবং অধিকাংশ মামলায় শাস্তি হচ্ছে।

তবে তাতে দুর্নীতি কমেছে কিনা সেই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা তিনি তার বক্তব্যে দেননি।

মুহ্তি বলেন, “এখন দুদকের মামলায় ৭০ ভাগ শাস্তি পায়। এটাই হবে ভবিষ্যৎ। তখন এন্টি করাপশন কমিশন ওয়াচ ডগ হিসেবে থাকবে। তারা লোকজনকে নীতিকথা শোনাবে। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে- এমন কথা আট বা ১০ বছর পরে আর বলা যাবে না।”

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অনুষ্ঠানে বলেন, অভাবের কারণে দুর্নীতির নজির এখন আর মিলবে না।

“বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীলের দেশের স্বীকৃতির পথে। আমরা সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আরো উন্নতি হত, যদি আমরা লোভের কারণে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারতাম।”

তিনি বলেন, কোনো কোনো অসাধু কোম্পানির কর্তারা ইদানিং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে এমন আর্থিক বিবরণী দিচ্ছেন, যা সঠিক নয়।

“ওগুলো তৈরি করে সিএ ফার্ম। কিন্তু ওইসব সিএ ফার্মই আবার ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক বিবরণী ব্যাংক ও আয়কর বিভাগে জমা দিচ্ছে। এটা কী করে সম্ভব!”

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেখাবেন কিনা, অথবা আপনি বললে আমরাও দেখতে পারি। কারণ এটি একটি দুর্নীতি।”

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যাদের মধ্যে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) জাফর ইকবালসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।