সুন্দরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে জাপা প্রার্থী শামীম হায়দার জয়ী

আগের সংবাদ

ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার দায় কার?

পরের সংবাদ

ইউএস-বাংলা দুর্ঘটনা: বিভ্রান্তির পেছনে কী?

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০১৮ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৮, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

শতাধিকবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের অভিজ্ঞতা যার রয়েছে, সেই আবিদ সুলতানের পরিচালনার মধ্যে কীভাবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হল, তা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে বৈমানিকদের কাছে।

বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে ইউএস-বাংলার বৈমানিকদের শেষ মুহূর্তের যে কথোপকথন ইন্টারনেটে ঘুরছে, তাতে দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি স্পষ্ট।

পাহাড় ঘেরা কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ উত্তর প্রান্ত বা রানওয়ে ২০ দিয়ে না নামতে বৈমানিকদের প্রতি সাধারণ নির্দেশনা রয়েছে বিমান সংস্থাগুলোর।

কিন্তু সোমবার বিধ্বস্তের আগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দেশনা না শুনে ওই রানওয়ের দিকেই কেন যাচ্ছিল ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি, তা এখন বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে দুটি ফ্লাইট চালিয়ে কাঠমান্ডু রওনা হওয়ার আগে আবিদ সুলতান কি বিশ্রাম চাচ্ছিলেন- সেই প্রশ্নও ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি কি আবিদ সুলতান চালাচ্ছিলেন, না কি নবীন পাইলট পৃথুলা রশিদের হাতে ছিল সে ভার, তার উত্তরও এখনও স্পষ্ট নয়।

বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর চার বছরের মধ্যে অন্তত তিনটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলার পর বড় এই দুর্ঘটনার পেছনে ইউএস-বাংলার কোনো গাফিলতি আছে কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও বলছেন অনেকে।

সোমবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাটির উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় অর্ধশত নিহতের ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে আলোচিত। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার কারণ খুঁজছেন সবাই।

ককপিটে বিভ্রাট কেন?

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে বৈমানিকের কথোপকথন ধরে বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন নিরাপত্তার তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা জ্যাকডেক বলছে, “কোন দিকে নামবে সে বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে পাইলটদের দিক থেকে।”

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ একজন পাইলট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ত্রিভূবন বিমানবন্দরে বেশিরভাগ ফ্লাইট নামে দক্ষিণ দিক থেকে। উচ্চতা, বাতাস ও ভৌগলিক অবস্থানের কারণে উত্তর দিক থেকে নামাটা ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি জানান, ১০ বছর আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে তাদের পাইলটদের নির্দেশনা দেয় যে কোনো পরিস্থিতিতেই উত্তর দিক (২০) থেকে যেন বিমান নামানো না হয়।

কথোপকথনের ওই অডিও থেকে বোঝা যায়, ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি (বিএস ২১১) যখন পৌঁছা্য়, তখন রানওয়ে ০২ এ আরেকটি উড়োজাহাজ ছিল। তখন তাকে অপেক্ষায় রাখা হয়।

এরপর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পাইলটের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন দিক দিয়ে নামতে চান- রানওয়ে ০২, না রানওয়ে ২০।

পাইলট তখন বলেন, তিনি রানওয়ে ২০ ধরতে চান। তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।

শেষ সময়ে পাইলট বলে ওঠেন, তিনি রানওয়ে ০২ এ নামতে যাচ্ছেন, যদিও এর আগে তিনি উল্টো দিকে নামার অনুমতি চেয়ে আসছিলেন।

এরপর পরক্ষণেই রানওয়ের পূর্ব পাশে বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষে অভিযোগ আবার ত্রিভুবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, পাইলটকে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এক পাইলট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাইলটকে দক্ষিণ দিক (০২) থেকে নামতে বলা হয়েছে। পাইলটও নিশ্চিত করেছেন ০২। তারপরও তিনি উত্তর দিক থেকে বিমান নামানোর চেষ্টা করেছেন।”

সহকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আবিদের বিমান বাহিনীতে মিগ-২১ চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তার সময়কালে সব থেকে ‘ব্রাইট অফিসার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফটটি ক্যাপ্টেন আবিদই কানাডা থেকে বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিলেন।

আবিদ সুলতানের ৫ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৭০০ ঘণ্টা অভিজ্ঞতা রয়েছে ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ চালানোর। শতাধিকবার তিনি ত্রিভূবনে বিমান ওঠানামা করিয়েছেন।

দুর্ঘটনা কবলিত উড়োজাহাজে আবিদের সঙ্গে ছিলেন নবীন পাইলট পৃথুলা। দুজনেই মারা গেছেন এই দুর্ঘটনায়।

ত্রিভুবনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর, যেখানে গত বছরগুলোতে ২২টির বেশি দুর্ঘটনায় ৫০০ এর বেশি মানুষ নিহত হন, সেখানে পাইলট ও সহকারী পাইলটের উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা দেখা হয়।

যেমন- বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রে পাইলট ও সহকারী পাইলটের দুজনের ন্যূনতম ৫০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতার দরকার হয়। এছাড়া রুট সিমুলেটর ও রুট সিমিনারাইজেশন করতে হয় এবং দুটি রুট প্রশিক্ষণ দিতে হয় এবং একটি রুট চেক দিতে হয়।