পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে গেরিলাদের মোক্ষম আঘাত

আগের সংবাদ

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করে জাতিসংঘ

পরের সংবাদ

অভিন্ন আওতায় আসছে সব সরকারি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৯, ২০১৮ , ৫:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৮, ৫:০৩ অপরাহ্ণ

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আলাদা আলাদাভাবে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব কর্মসূচির জন্য রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা রয়েছে। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছিল দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ। এ সমস্যার সমাধানে সব সংস্থার ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিকে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বিত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে স্টেকহোল্ডারদের মতামতও নেয়া হয়েছে। শিগগরিই মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি নিয়ে এ খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি পর্যায়ের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে এই নীতিমালার আওতায় সমন্বয় করা যাবে না। সে জন্য আলাদা সংস্থা আছে। তবে সরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়া আরো সাত-আটটি দপ্তরের আলাদা আলাদা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচিকে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। তাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ নীতিমালাটি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবিলম্বে এটি বাস্তবায়ন হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিগুলোকে সমন্বয়ের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় পরীবিক্ষণ কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র আলোচনা হয়। ওই সময়ই অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। ওই উপকমিটি এ-সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া প্রণয়নে কাজ করে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রথম সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির প্রবর্তন করা হয়। পরে সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও আরো আটটি দপ্তরের অধীনে প্রায় ডজনখানিক ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯৭ লাখ পরিবারের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। ফলে একই কর্ম এলাকার সব দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় এনে তাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হচ্ছিল না। ওই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই এসব কর্মসূচিকে সমন্বয়ের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত ক্ষুদ্রঋণ বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ওই সমন্বয় কমিটি উপজেলা পর্যায়ে এসব কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় করবেন বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। এ কাজের জন্য পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ও বিসিকের উপজেলা পর্যায়ের জনবল ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে গ্রামে উঠান বৈঠক করে পরিবার জরিপের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের বাছাই করা হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় সমন্বয় কমিটির কাজের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের কার্যক্রম সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়, এসব ঋণ গ্রহণকারী পরিবারগুলো বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষ, বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো, বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি ব্যবহার, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, স্কুলগামী শিশুদের স্কুলে প্রেরণ, নিরক্ষরতা দূরকরণ, মা-শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, বাল্যবিয়ে নিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বহুবিধ আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গ্রামে গ্রামে দল গঠন করে সমবায় ভিত্তিকভাবে ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে এসব ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম হাতে নেয় বিভিন্ন সংস্থা। সরকারি সংস্থা ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, প্রশিকা, আশাসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক ভিত্তিতে সুদনির্ভর ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। এ নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে সরকারি পর্যায়ের কর্মসূচিগুলোতে সমন্বয় সাধন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।