ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ : সোহরাওয়ার্দীতে বড় শোডাউন করবে আ.লীগ

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

পরের সংবাদ

প্রতিনিধিদল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারানা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ ২ এপ্রিল!

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৭, ২০১৮ , ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৮, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকলেও সে অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেস-এক্সের পক্ষ থেকে। এখন তাদের নির্ধারিত যে কোনো দিনের জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সেভাবে ব্যাপক আয়োজন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নজরদারি করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। উৎক্ষেপণের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তারাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২ এপ্রিল দেশের মর্যাদার প্রতীক প্রথম স্যাটেলাইটটি মহাকাশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরালের স্পেস-এক্স থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হবে। এর আগে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু হারিকেন ‘ইরমা’র কারণে সে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ২৬ মার্চ তা মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ওই সময়ে সিডিউল দিতে না পারার কথা জানায় স্পেস-এক্স। তারা মার্চের শেষ সপ্তাহে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করতে চায়। সে অনুযায়ী গত ৭ জানুয়ারি তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন ২৭ থেকে ৩১ মার্চের কথা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রয়োজনে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য সে সময়টিও পিছিয়ে যায়।

গত ৪ মার্চ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানান, এপ্রিলের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। জানা গেছে, আবহাওয়া ও অন্যান্য সবকিছু অনুক‚লে থাকলে ২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উঠতে পারে। তবে কোনো কারণে সেদিন উৎক্ষেপণ করা না গেলে ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে তা করার প্রস্তাব দিতে পারে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন সে সময়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এখন তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নেই। এ নিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ কথাও সম্প্রতি উঠে এসেছিল তারানা হালিমের কণ্ঠে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ঠিক এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঠিক করে দেন যারা উৎক্ষেপণের সময় সেখানে অবস্থান করবেন। আর অনেকটা চমক দেখিয়েই সে দলের প্রধান করা হয়েছে তারানা হালিমকে।

এদিকে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনটি বিশেষভাবে উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ডাক, টেলি ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে ওই অনুষ্ঠানে। ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্যও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের তিন মাস পর তা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। এ জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি (বিসিএসসি) গঠন করা হয়েছে। ১১৬ নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে এ কোম্পানির সুসজ্জিত অফিস গোছানোর কাজও শেষ হয়েছে। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে ১৮ জনকে। এ প্রসঙ্গে বিসিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের প্রস্তুতি শেষ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণকাজও শেষ। এখন শুধু উৎক্ষেপনের প্রতীক্ষা। এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের তিন মাসের মধ্যেই তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য নীতিমালা, অর্গানোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, গাজীপুর ও বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে একসঙ্গে ৬টি স্যাটেলাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। যার প্রথমটির নাম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দেয়া হবে।

এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য রকেট নির্মাণ করেছে বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক টেলসলার প্রধান নির্বাহী অ্যালেন মস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেস-এক্স এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন। ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়ে এটির উৎক্ষেপণ করা হবে। দিন তারিখ ঠিক হওয়ার মাত্র ১৫ দিন আগে স্পেস-এক্স বিষয়টি বাংলাদেশকে জানাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্যাটেলাইটটি সঠিকভাবে উৎক্ষেপণের ৮ দিন পর এটি মহাকাশে বরাদ্দ পাওয়া ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাবে। উৎক্ষেপণের পর পরবর্তী ১ বছর পর্যন্ত এর তদারকি করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। এটি আগামী ১৮ বছর পর্যন্ত মহাকাশে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। এ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের জন্য গত বছরের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে অরবিটাল স্পট কেনে বাংলাদেশ। এখানে আরো ২টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হংকং-সাংহাই ব্যাংকের (এইচএসবিসি) সঙ্গে ১ হাজার ৪শ কোটি টাকার একটি ঋণচুক্তি সই করে বিটিআরসি। স্যাটেলাইট নির্মাণ, সিস্টেম কেনা ও গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের জন্য এ টাকা দেয় ব্যাংকটি।