সিরিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৯

আগের সংবাদ

এক লাখ একর জমি অধিগ্রহণ করবে বেজা

পরের সংবাদ

জানুয়ারি মাসে গড় লেনদেন ৯৮০ কোটি টাকা

এক মাসের ব্যবধানে সক্রিয় হিসাব কমেছে তিন লাখ

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৭, ২০১৮ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৮, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দ্রুততম সময়ে এক স্থান হতে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং। বর্তমানে এ সেবা ব্যবহার করেই মানুষ তাদের পরিবার পরিজন ও নিকটাত্মীয়ের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। সর্বশেষ হিসাব মতে, দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ। জানুয়ারি শেষে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ। ডিসেম্বরে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১০ লাখ। এক মাসের ব্যবধানে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমেছে ৩ লাখ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিসাব খোলা ও পরিচালনায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোনো ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-অ্যাকটিভ বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তিন মাসের মধ্যে একটি লেনদেন হলেই তা সক্রিয় হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য বড় কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না ব্যাংক।

কিন্তু সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অপব্যবহার ঠেকাতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে হিসাব খেলা ও পরিচালনা এবং লেনদেনে আরো বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, এখন একজন ব্যক্তি একটি সিম দিয়ে যে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ওই নির্দেশনার পর যাদের একাধিক হিসাব ছিল তা বন্ধ করা হয়। চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ অবস্থায় জানুয়ারি মাস শেষে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বন্ধ হিসাবের সংখ্যা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্দেশনার আলোকে মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্য হালনাগাদ করায় নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমলেও ভবিষ্যতের জন্য এটা ভালো দিক। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদির বলেন, আগে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একাধিক হিসাব চালু রাখতে পারতেন গ্রাহকরা। সম্প্রতি দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মোতাবেক মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্য হালনাগাদ করায় নিষ্ক্রিয় হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, বন্ধ হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও দৈনিক গড় লেনদেন আগের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৯৮০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে লেনদেন হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। বর্তমানে মোট ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ। ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন হয়েছে ১১ হাজার ৬৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পিটুপি ট্রানজেকশন হয়েছে ৪ হাজার ৬৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়েছে ১১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে চলতি মাসের জানুয়ারি থেকে একজন মোবাইল গ্রাহক তার ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার স্থিতি রাখতে বলা হয়েছে। এর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) গ্রাহকরা তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখা যেত।

প্রসঙ্গত, অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকায় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এক হাজার ৮৬৩টি গ্রাহক হিসাব বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া স¤প্রতি হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্সের অর্থ এনে তা সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগে বিকাশের আট এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ (সিআইডি)।