সিরিয়ার গৌতায় নতুন করে হামলায় নিহত ৫০

আগের সংবাদ

মেলায় ওবায়দুল কাদেরের বই ‘মাটি ও মানুষের কথা’

পরের সংবাদ

শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, উভয় দেশের প্রায় ২৩ জন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এতে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখা আশ্রিত প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাদের ফিরে নেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখলে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল তাতে রাজি হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর মেরামত করতে যা যা দরকার তা মিয়ানমার সরকার করবে বলে সে দেশের প্রতিনিধি দল আশ্বস্ত করেছে। আজ দুপুরে সীমান্তের ঢেকিবনিয়া বিজিপি ক্যাম্পে বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

এসময় তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার প্রতিনিধি দল একটি পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কাছে প্রস্তাব রাখেন। মিয়ানমারে এমন কোন পরিবেশ দেখা যায়নি, যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে গিয়ে অনিরাপদ জনিত সমস্যার সম্মুখীন হবে।

তিনি বলেন, উভয় দেশের প্রতিনিধি দল শূন্যরেখায় ঘুরে সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা বলেছে তাদের বসতভিটায় বসবাসের নিশ্চিয়তা দিলেই যেকোন মুুহুর্তে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, প্রত্যাবাসনের আওতাধীন রোহিঙ্গারা ফিরে কোথায় থাকবে? তাদের কি অবস্থায় রাখা হবে, ওই সব পয়েন্টগুলো ঘুরে দেখা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের আপাতত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা মিয়ানমার যা করেছে তা মোটামুটি সন্তোষজনক মনে হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিক বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ঘুমধুম লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। পরে ঢেকিবনিয়া ক্যাম্পে উভয় দেশের প্রতিনিদলের বৈঠক শুরু হয়।

মিয়ানমারে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদেন মংডু টাউনশীপের কমিশনার টং পে লেউই। প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা ব্যাপী বৈঠকে প্রত্যাবাসন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বর্ষার আগেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার তাগিদ দিলে মিয়ানমার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (যুগ্ম সচিব) আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন, বান্দরবান পুলিশ সুপার সনজিৎ কুমার রায় সহ সেনা, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।