বনানীতে ফের ধর্ষণ!

আগের সংবাদ

সামাজিক অবক্ষয় ও আত্মহনন প্রবণতা

পরের সংবাদ

একুশের অনালোচিত ও নেপথ্য কথা- পর্ব ৭

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০১৮, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

আমাদের ভাষাসংগ্রামের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। এই ইতিহাসের অনেক ঘটনা আজও অজানা ও অনালোচিত। ভাষা আন্দোলন গবেষণাকেন্দ্র সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভাষাসংগ্রামের অজানা ও অনালোচিত বিষয়াবলী উৎসাহী পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করছেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস গবেষক এম আর মাহবুব।

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের কারণে প্রথম চাকরিচ্যুত মহিলা

নারায়ণগঞ্জের মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষায়িত্রী মমতাজ বেগমকে ১৯৫২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একুশের আন্দোলনের জড়িত থাকার কারণে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত অবস্থায়ই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

মমতাজ বেগমের প্রকৃত নাম কল্যাণী রায় চৌধুরী। তিনি সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশীর বোনের মেয়ে। ১৯২৩ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রগতিশীল চিন্তার ধারক কল্যাণী রায় চৌধুরী রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল ভেঙে ভালোবেসে বিয়ে করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর আব্দুল মান্নাফকে। ধর্মান্তরিত হয়ে কল্যাণী রায় চৌধুরী নাম গ্রহণ করেন মমতাজ বেগম। কারাগার থেকে বন্ড সই করে মুক্তিলাভের বিষয় অস্বীকার করার অপরাধে মমতাজ বেগমকে তার স্বামী পরিত্যাগ করে। এভাবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করতে এসে মমতাজ বেগমের সংসার তছনছ হয়ে যায়। ২৯ ফেব্রুয়ারি মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় নিম্নোক্ত খবর প্রকাশিত হয়- ‘সকাল বেলা স্থানীয় পুলিশ নারায়ণগঞ্জ মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষয়িত্রী মিসেস মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে মহকুমা হাকিমের আদালতে হাজির করে। সংবাদ পেয়ে একদল ছাত্র ও নাগরিক আদালতের সামনে হাজির হয়, বিনা শর্তে তার মুক্তি দাবি করে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ইত্যাদি ধ্বনি করতে থাকে। মহকুমা হাকিম ইমতিয়াজী তখন বাইরে এসে বলেন, মমতাজ বেগমকে স্কুলের তহবিল তছরুপের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঙ্গে তার গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু জনতা তা বিশ্বাস করে না, বলতে থাকে, মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কর্মী বলেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সুতরাং তাকে বিনা শর্তে মুক্তি না দিলে তারা আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাবে না। পুলিশ তখন মৃদু লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছঙ্গভঙ্গ করে। বিকেলে পুলিশ মোটরযোগে মমতাজ বেগমকে নিয়ে ঢাকা রওনা হলে চাষাঢ়া স্টেশনের কাছে জনতা বাধা দেয়। তাতে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ফলে উভয় পক্ষে ৪৫ জন আহত হয়।

ভাষা শহীদদের কবর শনাক্তকরণ ও রক্তাক্ত বস্ত্র উদ্ধার

আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদের দাফন, তাদের হত্যাকারী ও সমাধি শনাক্ত করণের ইতিহাস আজো আমাদের অজানা। তবে ২১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে এ বিষয়ে আমরা ধারণা পেতে পারি। ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি জীবনদানকারী ভাষা শহীদদের মরদেহ রাখা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যে দুজন ছাত্র ভাষা শহীদদের মরদেহ পাহারা ও শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তারা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রনেতা খোন্দকার আলমগীর ও আমীর আহসান। ২১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে পুলিশ যখন মরদেহ নিয়ে আজিমপুর কবরস্থান চলে যায় তখন এই দুজন ছাত্র রাতের অন্ধকারে গোপনে সেখানে উপস্থিত হন এবং ভাষা শহীদদের কবর দেয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। আমরা এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারি কয়েকজন ভাষা সংগ্রামীর স্মৃতিচারণ থেকে। ভাষা শহীদদের কবর শনাক্তকরণ ও রক্তাক্ত বস্ত্র উদ্ধার করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্র খোন্দকার আলমগীর। রক্তাক্ত বস্ত্র নিয়ে প্রথম মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে।

ডা. খোন্দকার আলমগীর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং ১৯৫৫-৫৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। খোন্দকার আলমগীর ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি ছিলেন। ষাটের দশকের শুরুতেই তিনি কর্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং ২০০৫ সালের ২১ জানুয়ারি মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত সেখানে ছিলেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্রেই সমাহিত করা হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের এই মহান সৈনিক একুশে ফেব্রুয়ারি সারা রাত জেগে যদি ভাষা শহীদদের মরদেহ পাহারা এবং কবর শনাক্ত না করতেন তাহলে আজকে আমরা হয়তো ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে পারতাম না, পেতাম না ভাষা শহীদদের রক্তাক্ত বস্ত্র। সে সময়ে সেই ঐতিহাসিক ও দুঃসাহসিক কাজটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ ও মহান ছিল আজ প্রতিটি বাঙালি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছেন। জীবন বাজি রেখে বহু কষ্ট সহ্য করে খোন্দকার আলমগীর এবং তার সতীর্থ বন্ধু আমীর আহসান ভাষা শহীদদের মরদেহ পাহারা দিয়ে, কবর শনাক্তকরণ ও রক্তাক্ত বস্ত্র উদ্ধার করে যে ঐতিহাসিক ও জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন তা আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসে এক চির অম্লান অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমি (লেখক) প্রথমে বই পড়ে এবং ভাষা সংগ্রামীদের সঙ্গে কথা বলে ভাষা আন্দোলনে বিশেষ করে ভাষা শহীদদের দাফন ও সমাধি শনাক্তকরণে ডা. খোন্দকার আলমগীরের অবদান সম্পর্কে অবগত হই। সরাসরি তার সাক্ষাৎকার গ্রহণের একটি সুপ্ত বাসনা লালন করতে থাকি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি আমেরিকাপ্রবাসী। আরো জানতে পারি প্রতি বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় আসেন একুশের অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিতে। সাংস্কৃতিক সংগঠক ও প্রকৌশলী সৈয়দ জিয়াউল হক এ ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অপ্রত্যাশিতভাবেই ডা. খোন্দকার আলমগীরের সঙ্গে আমার কথা ও সাক্ষাৎ হয়। তখন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আমাকে এই সুবর্ণ সুযোগটি তৈরি করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্নায়ুরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সংসদ সদস্য বর্তমানে প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রকর্মী হিসেবে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ডা. খোন্দকার আলমগীর ছিলেন অধ্যাপক মান্নানের সহপাঠী ও সতীর্থ। প্রফেসর. ডা. এম এ মান্নান সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অলাভজনক, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নিউরোলজি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। ওই প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র হিসেবে নিউরন নামে একটি ত্রৈমাসিক বহুমুখী পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্ন থেকে। ওই প্রতিষ্ঠান এবং পত্রিকার সঙ্গে আমি একেবারে শুরু থেকেই জড়িত ছিলাম। অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান খোন্দকার আলমগীরের কাছে ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত একটি লেখা চেয়ে টেলিফোন করেন। ডা. আলমগীর এতে রাজি হন। পরবর্তী যোগাযোগ ও লেখাটি সংগ্রহ করার দায়িত্ব অর্পিত হয় আমার ওপর। আমি ডা. আলমগীরের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও এতদ্সংশ্লিষ্ট লেখাটি উদ্ধারে তৎপর হই। ভাষা শহীদদের মরদেহ ও কবর শনাক্তকরণ এবং রক্তাক্ত বস্ত্র উদ্ধারে বায়ান্নর এই নিভৃতচারী, প্রচারবিমুখ বাম ছাত্রনেতার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কখনো কাউকে কিছু বলেননি বা তেমন কিছু লেখেননি। আমাদের বারবার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিউরোলজি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আমার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং একুশের ঘটনাবলি, ভাষা শহীদদের সমাধি শনাক্তকরণ, রক্তাক্ত বস্ত্র উদ্ধার, রক্তাক্ত বস্ত্র নিয়ে প্রম মিছিল এবং বাংলা ভাষার বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় এসব বিষয় নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তিনি স্বহস্তে লিখিত ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি মূল্যবান স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধ তৈরি করেন এবং আমাকে হস্তান্তর করেন। আমেরিকা প্রবাসী ডা. আলমগীর অল্পদিনের জন্য বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। তখনই তিনি এ প্রবন্ধটি লেখেন। অতীব দুঃখের বিষয় যে, এই ঘটনার এক বছর পরই অর্থাৎ ২০০৫ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই সাক্ষাৎকার ও প্রবন্ধে একুশের অমর শহীদদের মরদেহ, কবর শনাক্তকরণ ও রক্তাক্ত বস্ত্র সম্পর্কে যেসব তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে তা এর আগে সম্ভবত কোনো বই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।

আমি মনে করি ডা. আলমগীরের এই সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশে অবস্থানকালীন তার জীবনের শেষ সাক্ষাৎকার এবং তার স্বহস্তে লিখিত ওই প্রবন্ধটি ভাষা আন্দোলনের একটি দুর্লভ দলিল। দৈনিক প্রথম আলোতে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে আমার লেখা ভ‚মিকা সংবলিত ডা. খোন্দকার আলমগীরের ওই লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছিল। এ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে খোন্দকার আলমগীর বলেন-

‘শহীদদের মৃতদেহ মর্গে, আহতদের চিকিৎসার পরে কয়েকজনের মৃত্যু হলে তাদের মৃতদেহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কোনায় আড়াল করে রাখা হয়। এগুলো পাহারারত ছিলাম আমরা কয়েকজন। কিন্তু রাত তিনটার দিকে সামরিক বাহিনীর লোকজন হাসপাতাল ঘেরাও করে লাশ নিয়ে যায় রাত চারটার মধ্যেই। সকাল বেলা কারফিউর সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ভাবছি লাশগুলো কোথায় নিয়ে যেতে পারে? আমির আহসানসহ আমরা ঠিক করলাম আজিমপুর কবরস্থানেই খোঁজ নেয়া যায়। না পেলে বনানী যাওয়ার চেষ্টা করা যাবে। বনানী তখন অনেক দূরে। যানবাহনের রাস্তাও তেমন সুবিধার ছিল না। আজিমপুর কবরস্থানেই কবর খননকারীদের দেখা পাওয়া সহজ হয়ে যায়। গণকবর এবং বরকতের একক কবর শনাক্ত করব। তাদেরই সাহায্যে উদ্ধার করা গেল শহীদদের রক্তস্নাত কাপড়-চোপড় এবং ব্যান্ডেজ ইত্যাদি কবরস্থানের মাঝামাঝি একটি ছোট্ট ঘর থেকে। ওই ঘরটি মৃতদেহ গোসল করানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। উদ্ধারকৃত ব্যান্ডেজ ও কাপড়-চোপড় একটা ছেঁড়া ছালায় ভর্তি করে নেই। ছালাটি কেনা হয় ঘাসকাটায় নিযুক্ত এক কিশোরের কাছ থেকে। কবরগুলোতেও গাছের ডাল ভেঙে রক্তস্নাত কাপড়ের টুকরো বেঁধে দেয়া হলো শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য। আজিমপুর কবরস্থান থেকে সাইকেলে করে ফেরার পথে প্রথমেই সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে জনতার ভিড় দেখলাম। ঢাকেশ্বরী ও পলাশির ব্যারাকের বাসিন্দা সরকারি কর্মচারীরা ও তাদের সন্তানসন্ততিরা ভিড় করছেন। হলের মাইকে তিন-চারবার ঘোষণা দেই কবর পাওয়ার খবর এবং কবর শনাক্ত করা হয়েছে বলে। কিন্তু রক্তস্নাত ব্যান্ডেজ ও কাপড়ের টুকরো ছোট ছোট ডালপালা ছড়িয়ে রক্তপতাকার এক শোভাযাত্রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবরস্থানের দিকে যেতে থাকায় প্রতীক্ষমাণ জনতা এই এক নতুন কর্মসূচি পেলেন।’ (সূত্র : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ততা-খোন্দকার আলমগীর/একুশের অমর ভাষা শহীদ, এম আর মাহবুব, গৌরব প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, লেখকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. খোন্দকার আলমগীর, দৈনিক প্রথম আলো ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯)