রেমিট্যান্সের অর্থ হুন্ডি করায় ৮ বিকাশ এজেন্ট গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

ছয় লেন ফ্লাইওভারের উদ্বোধন আজ

পরের সংবাদ

গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭১ বছরে ছাত্রলীগ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৪, ২০১৮ , ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ৩:১০ অপরাহ্ণ

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা-স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গৌরব ও ঐতিহ্যের এ ছাত্র সংগঠনটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া এই সংগঠনটির জন্ম ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয় ছাত্রলীগের।

তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে যাত্রা শুরু ছাত্রলীগের। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। গৌরবের ৭১ বছরে বাঙালি জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাসে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ’৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত, ’৫৮-এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, ’৬৬-এর ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া, ৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক-শাসকের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি, ’৭০-এর নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের উত্তোরণসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষ নেতার রাজনীতিতে হতেখড়িও হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তবে সংগঠনটি চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণও ছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সংগঠনটি বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা তৎকালীন ছাত্রলীগের বেশ কজন শীর্ষনেতা সংগঠন ছেড়ে ১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময় জাসদ ছাত্রলীগ নামে আলাদা ছাত্র সংগঠনও গড়ে ওঠে, যা আজো ছাত্র রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। এরপরও কয়েক দফায় ভাঙা-গড়ার কবলে পড়তে হয়েছে সংগঠনটিকে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দীর্ঘ পথচলায় বাংলার মানুষের এবং ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ে কাজ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি আমাদের ভাষা অধিকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ। এরপর গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে তখনই ছাত্রলীগ আবির্ভূত হয়েছে ত্রাতার ভূমিকায়। এখন আমাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়া।