সতীর্থের বান্ধবীর সঙ্গে অবকাশযাপনে মোরাতা

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসেন নিউইয়র্কে সেমিনার

পরের সংবাদ

সেরেনার ঘর-সংসার

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২০, ২০১৭ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৭, ১০:৫১ অপরাহ্ণ

শামসুজ্জামান শামস

শামসুজ্জামান শামস

হেড অব স্পোর্টস

কৃষ্ণ কলি সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে আমেরিকান রেডিট প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের প্রথম পরিচয় ইতালির রোম শহরে। পরিচয়ের পর ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই নিজেদের মধ্যে আংটিও বদল করে। এরপর চলতে থাকে দুজনের প্রেমলীলা। গত সেপ্টেম্বর মাসে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর ১৬ নভেম্বর বিয়ের শুভ কাজটিও সম্পন্ন করেন এ জুটি। সেরেনা উইলিয়ামস ১৯৮১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সাগিনাও শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রিচার্ড উইলিয়ামস এবং মায়ের নাম ওসেনা প্রাইস। বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তানের সবার ছোট এ টেনিস তারকা। কে জানত যে, পরিবারের সবার ছোট এ মেয়েটি আমেরিকার সেরা টেনিস খেলোয়াড়ে পরিণত হবে। সেরেনার বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা মাতৃভূমি ত্যাগ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় আসার পরেই সেরেনা এবং ভেনাসকে টেনিস একাডেমিতে ভর্তি করে দেন বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস।

বিয়ে অনুষ্ঠানে সেরেনা- অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান

পিতার ইচ্ছা দুই মেয়ে সেরেনা এবং ভেনাসকে টেনিস খেলোয়াড় বানাবে। তাই একসঙ্গে দুজনকেই তিনি পার্সোনাল কোচের কাছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন। কোচের আওতায় টেনিসে দক্ষতা বাড়াতে থাকেন দুই বোন। তবে টেনিসে ভেনাসের চেয়ে ভালো পারফর্ম করেন সেরেনা। এজন্য সেরেনাকে নিয়ে কোচ মন্তব্য করেন, সেরেনা উইলিয়ামস একদিন অনেক বড় খেলোয়াড় হবে। কোচের এ কথা সত্যিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেরেনা উইলিয়ামস টেনিসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম।
টেনিসে ছোটবেলা থেকেই অনেক ভালো পারফর্ম করেন সেরেনা। তাই বাবা রিচার্ড চেয়েছিলেন অল্প বয়সেই তাকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করাবেন। সেরেনা উইলিয়ামসের বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর, তার বাবা তখনই তাকে অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করান। কিন্তু টুর্নামেন্টে খুব একটা ভালো করতে পারেননি আমেরিকান এ টেনিস তারকা। কোনো ম্যাচ না জিতে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েন তিনি।

সেরেনা- অ্যালেক্সিস দুজন দুজনার

২৩ বারের গ্রান্ডস্লাম জয়ী এ তারকার টেনিসে প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই অভাবনীয় সফলতা আসেন তিনি। সেই বছর নভেম্বর মাসে আমেরিকান শিকাগো কাপে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণের সময় তার টেনিসে র‌্যাঙ্কিং ছিল ৩০৪। কিন্তু সেবার তিনি সবাইকে অবাক করে টুর্নামেন্টে হারান তখনকার টেনিসের সেরা দুই তারকাকে। টেনিসে কোর্টে দারুণ নৈপুণ্যের মাধ্যমে প্রথমে হারান টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা আমেরিকান টেনিস তারকা ম্যারি পাইসিকে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে হারান র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বরে থাকা মনিকা সেলসকে। সেই টুর্নামেন্টে তার দৌড় থেমেছিল সেমিফাইনালে। সেমিফাইনালে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫ নম্বরে থাকা লিন্ডেসে ডেভেনপোর্টের কাছে পরাজিত হন এ কিশোরী। টুর্নামেন্ট শেষে তার র‌্যাঙ্কিং ৩০৪ থেকে ৯৯-এ চলে আসে। দুর্দান্ত এ পারফরম্যান্সে বিশে^ খুব দ্রুত পরিচিতি পান তিনি। এরপর থেকে শুরু হয় গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের নেশা। আমেরিকান এ জীবন্ত কিংবদন্তির জীবনের প্রথম সফলতা আসে ১৯৯৯ সালে। সে বছরের মার্চ মাসে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দশের ভেতরে আসেন। র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির পর মাথায় গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের নেশা ধরে। কঠোর পরিশ্রম আর অবাধ আত্মবিশ^াসের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম পান ইউএস ওপেনে। তৎকালীন নাম্বার ওয়ান সুইস টেনিস তারকাকে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ডস্লামের স্বাদ পান তিনি। বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে ইউএস ওপেনে সে বছর টেনিসের ডাবলেও গ্র্যান্ডস্লাম জিতেন এ টেনিস। এরপর আর ক্যারিয়ারে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমেরিকান নাম্বার ওয়ান এ টেনিস তারকাকে। টেনিস কোর্টে চলতে থাকে তার একচ্ছত্র রাজত্ব। টেনিস ওপেনের সিঙ্গেলে এ পর্যন্ত তিনি মোট ২৩টি গ্র্যান্ডস্লাম অর্জন করেন। অস্ট্রেলিয়া ওপেন এবং উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নে পান ৭টি করে গ্র্যান্ডস্লাম। ইউএস ওপেনে পান ৬টি এবং ৪টি পান ফেঞ্চ ওপেনে। বিশ্ব টেনিসের ডাবলে সর্বমোট ১৪টি গ্র্যান্ডস্লাম ট্রফি পান তিনি। ডাবলে সর্বোচ্চ ৪টি করে ট্রফি পান অস্ট্রেলিয়া ওপেন এবং ইউএস ওপেনে। বিশ্ব টেনিসে অ্যাসোসিয়েশনে সর্বমোট ৭২টি ট্রফির মালিক আমেরিকান এ টেনিস তারকা। ২০০২ সালের ৮ জুলাই প্রথম টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে আসেন সেরেনা। এরপর র‌্যাঙ্কিংয়ে কয়েকবার উত্থান-পতন ঘটেছে। এ বছর অস্ট্রেলিয়া ওপেনে নিজের বোন ভেনাস উইলিয়ামসকে পরাজিত করে সর্বশেষ গ্র্যান্ডস্লাসাম জিতেন সেরেনা উইলিয়ামস। গত আগস্টে অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে টেনিস থেকে আপাতত অবসর নিয়েছেন তিনি।

সন্তান কোলে সেরেনা পাশে স্বামী অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান

অবসরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিলেন এ আমেরিকান টেনিস তারকা। চলতি মাসের ৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী টেনিসে এখন তার অবস্থান ২২তম। এখন পর্যন্ত টেনিস কোর্টে ফেরার কোনো তথ্য জানা যায়নি। আপাতত তিনি সেপ্টেম্বরে জন্মানো কন্যাকে অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান জুনিয়রকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন।
চলতি মাসের ১৬ নভেম্বর আমেরিকান রেডিট প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাটাও সেরে ফেললেন আমেরিকান এ টেনিস তারকা। গত সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়াম ও অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের সংসারে প্রথম কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্ম নিয়ে ঘর আলোকিত করলেও তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কিন্তু এতদিন সম্পন্ন করা হয়নি। তবে অনেকদিন ধরেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা ভাবছিলেন এ দম্পতি। তাই আর দেরি না করে  বিয়ের শুভ কাজটি সম্পন্ন করেন ২৩ বারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী এ টেনিস তারকা। ২০১৫ সালে রোমে প্রথম পরিচয়ের পর সে বছরেই ডিসেম্বরে আংটি বদল করেন এই যুগল। বিয়ের দিন ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিয়ের কথা অনেকেই জানত না।

দুই বছর প্রেম করার পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সেরেনা

বিকাল হতে হতে গণমাধ্যমগুলোতে বিয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ে। সেরেনার জমকালো বিয়েতে অতিথি তালিকাতেও যে বড় বড় নাম থাকবে, তা আন্দাজ করা যাচ্ছিল আগে থেকেই। জানা গেছে, মার্কিন মিউজিকের বড় নাম বিয়ন্সে আর জে জেড, আমেরিকান অভিনেত্রী ইভা লঙ্গোরিয়ার মতো তারকাও উপস্থিত ছিলেন নিউ ওরলিয়ন্সের অনুষ্ঠানে। বিগ ইজির আর্টস সেন্টারে বিয়ের এ অনুষ্ঠানে ২৫০ জনের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। বিয়ের পুরো অনুষ্ঠানের খরচ হয়েছে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। ওই অনুষ্ঠানে কোনো অতিথিকে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ৩৬ বছর বয়সী সেরেনার উইলিয়ামের স্বামী অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের বয়স ৩৪ বছর।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা