বিপিএলে ফের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেন সাব্বির

আগের সংবাদ

নদীর নামে ছবির নাম

পরের সংবাদ

সিপিএর ৬৩ তম সম্মেলনে মেলা, দেশি পণ্যের সমাহার

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৭ , ১:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৭, ১:৫২ অপরাহ্ণ

এন রায় রাজা

এন রায় রাজা

সিনিয়র রিপোর্টার

বাংলাদেশী বিভিন্ন আকর্ষনীয় পণ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনস্থল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের (বিআইসিসি) আঙিনায় বসেছে ‘বাংলাদেশি পণ্যের মেলা’। এ মেলায় সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছে। মোট ২২টি স্টলে স্থান পেয়েছে এ মেলায়। মেলা চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আয়োজক ও অংগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতেই তাদের তিন দিনের এ আয়োজন। এছাড়াও মেলার মাধ্যমে বাণিজ্য সমম্ভাবণার কথাও তারা মাথায় রাখছেন।
সিপিসি সম্মেলন গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হলেও অনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে গত রোববার থেকে বিআইসিসিতে শুরু হয়েছে ৬৩তম সিপিসি কনফারেন্সের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত অনুষ্ঠান।

মেলায় পণ্য দেখতে ও কিনতে আসা অতিথি ব্রিটিশ ওভারসিস টেরিটোরির দীপ সেন্ট হেলেনা আইল্যাণ্ডের আঞ্চলিক সংসদ সেন্টোলিনা রেজিসলেটিভ সেন্টারের এমপি কাইলী হারকুলিস বলেন, খুবই সুন্দর বাংলাদেশী পণ্যগুলো। এখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন হস্তশিল্প, কাঠের জিনিষপত্র, চামড়াজাত দ্রব্য, কুটির শিল্প, তৈরি পোশাক, বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী ঢাকাই জামদানি খুবই আকর্ষনীয় ও সুন্দর। দামও নাগালের মধ্যে। এসময় তিনি বেশ কিছু চামড়া, হাতের তৈরি পুতির গহনা ও কাঠের জিনিষ কিনেছেন বলে জানান।

আবার ইটালীয়াল দীপ আইল্যা- পেসিফিক এর সংসদ সদস্য সামেসায়া বলেন, তিনি তার স্ত্রীর জন্য একটি বাংলাদেশী গোলাপী সবুজ মেশান জামদানী কিনেছেন। এছাড়া মেয়েদের জন্য কিছু হাতের তৈরি জিনিষপত্রও কিনেছেন বলে জানান। তবে জিনিষপত্র গুলো অনেক সস্তা ও সুন্দর বলেও জানান তিনি। আরেক ক্যারিবিয়ান অতিথি সু মি থেরা বলেন, আমি তো বেশ অভিভ’ত। এত সুন্দও জিনিষ পত্র এখানে আছে, সবই তো কিনতে ইচ্ছে করে। তবে শাড়ি তো পরি না তাই ব্যাগ, পুতি ও হস্ত শিল্পের কিছু জিনিষপত্র কিনলাম। ভেরী নাইস।

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় ফোরাম সিপিএর ৫২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশ, ১৮০টি শাখার মধ্যে ১১৪টি শাখা এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। এসব দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যসহ সাড়ে পাঁচশর মত প্রতিনিধি এ সম্মেলন উপলক্ষে অবস্থান করছেন ঢাকায়।

সিপিএ সম্মেলনে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের মুদ্রা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী ব্যাংকের একটি বুথও রাখা হয়েছে মেলায়।
মেলার আয়োজন প্রসঙ্গে সিপিএ চেয়ারপারসন ও সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সিপিএ সম্মেলনে এবাের বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ শ’র অধিক অতিথি এসেছেন। তারা বিদেশে বসে আমাদেও পন্য কেনেন। আমাদেও দেশে এসে তারা যাতে বাংলাদেশী পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কিনতে পারেন সেজন্য আমরা এ মেলার আয়োজন কেরছি। অনেকে হয়তো কেনা কাটা করতে চায়। ব্যস্ত থাকায় ও সময়াভাবে তারা বাইরে কোথাও কেনাকাটা করতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। আমরা তাদের জন্য এই মেলার আয়োজন করেছি। এখানে বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করেছি, যাতে এখান থেকেই বিদেশিরা কেটাকাটা সারতে পারেন। এছঅড়াও আমাদেও প্রচার ও বাণিজ্যিক সম্ভবনার দিকটাও আমাদের ভাবনায় রয়েছে।
বাংলাদেশি পণ্যকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করা এ মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য জানিয়ে শিরীন শারমিন বলেন, মেলায় আসা প্রতিনিধিরা নিজেরা পণ্য কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের বিষয়ে তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পথও উন্মুক্ত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তার একটি চিত্রও এ মেলায় উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্পিকার।

মেলার প্রবেশ মুখেই রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকে তুলে ধরার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ স্টলটি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বেশ কিছু দুর্লভ আলোকচিত্র, তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইসহ অন্যান্য উপকরণ রাখা হয়েছে ওই স্টলে। বঙ্গবন্ধু কর্নারে ভিডিও চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ তার জীবনীর ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় দ্বিতীয়াংশে অংশ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু মনজুর সাইফ বলেন, আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করি। তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করি, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিই। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য মেলায় নিয়ে এসেছে। এসএমই ফাউন্ডেশন বিষয়টি সমন্বয় করছে। প্রত্যোকটি পণ্য যে উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন, তার নামেই বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে।

চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা গুজ লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিতা বোস বলেন, বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে মেলায় অংশ নিয়েছি। চামড়াজাত পণ্যের সামান্য কিছু বাদে পুরোটাই এই দেশীয়। বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের কদর বিশ্বব্যাপী।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জয়িতা ফাউন্ডেশন, জয়িতা মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় বেশ ভিড়ও দেখা গেল।