সিপিএর ৬৩ তম সম্মেলনে মেলা, দেশি পণ্যের সমাহার

আগের সংবাদ

বাগেরহাটে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২

পরের সংবাদ

নদীর নামে ছবির নাম

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৭ , ২:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৭, ২:২৯ অপরাহ্ণ

মিঠাপানির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চট্টগ্রামের হালদা নদী বিশ্বে অনন্য। হালদা নদীর গতি-প্রকৃতি, নদীর ক্ষয় ও তীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা এবার উঠে এসেছে সিনেমায়। তৌকির আহমেদের নতুন ছবি ‘হালদা’। নদীর নামে ছবির নাম নতুন নয়। আগেও নদী এসেছে সিনেমার চরিত্র হয়ে। জেলেদের যাপিত জীবন তুলে আনা হয়েছে সেলুলয়েডে। নদীলালিত মানুষদের সংগ্রামের গল্পও বাদ যায়নি। নদীর নামে অপূর্ব সুন্দর নামের ছবিগুলোর কথা জানাচ্ছেন স্বাক্ষর শওকত

ধীরে বহে মেঘনা
‘ধীরে বহে মেঘনা’ ১৯৭৩ সালের ছবি। আলমগীর কবিরের প্রথম পরিচালনা এটি। স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভ‚মিতে নির্মিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’। অভিনয়ে ছিলেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মুস্তাফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ খান প্রমুখ। এটি প্রথম ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি বলে জানা যায়। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০টি ছবির মধ্যে ‘ধীরে বহে মেঘনা’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। ছবির গান রচনা করেছেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং সুরারোপ করেছেন সমর দাস। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সত্য সাহা। এই ছবিতে দুটি গান গেয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে ‘ধীরে বহে মেঘনা’ ছবির মূল পরিকল্পনা করেছিলেন জহির রায়হান।

পদ্মা নদীর মাঝি
নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষদের নদীভিত্তিক জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দলিল বলে পরিচিতি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। এ ছবিতে জেলেদের কঠিন সংগ্রামের জীবনচিত্র বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথভাবে নির্মিত বিখ্যাত ছবিগুলোর একটি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেন গৌতম ঘোষ। তার বিখ্যাত ছবিগুলোর একটি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। এতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, চম্পা, রূপা ব্যানার্জী, উৎপল দত্ত প্রমুখ। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ১৯৯৩ সালে কয়েকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। এগুলো হচ্ছেÑ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সেরা অভিনেত্রী, চম্পা, সেরা মেকআপম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং সেরা শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক।

তিতাস একটি নদীর নাম
নদীতীরের মানুষদের জীবনযুদ্ধ, তাদের জীবনের দৈনন্দিন সংকট, তাদের সম্পর্কের জটিলতাÑ এসব বিষয় জীবন্ত দলিল বলে স্বীকৃত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। ঋত্বিক ঘটকের অন্যতম সেরা ছবি এটি। এ দেশের শ্রেষ্ঠ ছবিগুলোর একটি। যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটির প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। অদ্বৈত মল্লবর্মণের কালজয়ী উপন্যাস থেকে তৈরি এ ছবিতে অভিনয় করেছেন গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ, রওশন জামিল ও প্রবীর মিত্র। এর সুরকার ছিলেন ওস্তাদ বাহাদুর খান। চিত্রগ্রাহক ছিলেন বেবী ইসলাম। সম্পাদক ছিলেন বশির হুসেন। ১৯৭৩ সালের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।

চিত্রা নদীর পারে
‘চিত্রা নদীর পারে’ ১৯৯৮ সালের ছবি। রচনা ও পরিচালনা করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। এতে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী প্রমুখ। ছবিটি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং দেশে একাধিক জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। কাহিনীকার, পরিচালনা ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান তানভীর মোকাম্মেল। ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল, তা এই ছবিতে দেখান হয়েছে। কাহিনীর শুরু ১৯৪৭ থেকে এবং শেষ হয় ষাটের দশকে। ‘চিত্রা নদীর পারে’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু।

নদীর নাম মধুমতী
‘নদীর নাম মধুমতী’ ১৯৯৫ সালের ছবি। ছবিটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। এতে প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন তৌকির আহমেদ, আলী যাকের, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সারা জাকের, আফসানা মিমি প্রমুখ। মধুমতী নদীর পারের গ্রামে মোতালেব মোল্লা স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা। মোতালেব বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে করে। সেই স্ত্রীর সন্তান বাচ্চু। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মোতালেব পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়। মুক্তিযুদ্ধে যায় বাচ্চু। মোতালেবকে হত্যা মিশন সম্পন্ন করার জন্য সে মধুমতী নদী পার হয়ে আসে। ছবির কাহিনী ও সংলাপ রচনার জন্য তানভীর মোকাম্মেল শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে এবং সাইদুর রহমান বয়াতি শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

বিদ্রোহী পদ্মা
বিদ্রোহী পদ্মা ২০০৬ সালের ছবি। আশকার ইবনে শাইখের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ বাণিজ্যিক ছবির সফল নির্মাতা বাদল খন্দকার ছবিটি পরিচালনা করেন। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এনটিভি ছবিটি প্রযোজনা করে। ছবির প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, রিয়াজ, পপি, শামস সুমন ও শহীদুল আলম সাচ্চু। পদ্মা নদীর চর নিয়ে শোষক ও শোষিতের লড়াইয়ের আখ্যান ‘বিদ্রোহী পদ্মা’। দখলদার জমিদার তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায় করতে পিছপা হয় না। জমিদারের চর দখল, নারীর প্রতি অত্যাচারের প্রতিবাদ করে তারই লাঠিয়াল রহমত (কাঞ্চন)। তার সঙ্গে একাত্ম হয় গ্রামের স্কুল শিক্ষক রকিবুল (শামস সুমন) ও গায়েন রাজু (রিয়াজ)। তারা ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষদের প্রতিবাদের ভাষা শেখায়। তারা প্রতিবাদী একদিন জোটবদ্ধ হয়ে শোষক ও অত্যাচারী জমিদারের ওপর আঘাত হানে।
মধুমতী
মধুমতী ২০১১ সালের ছবি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন শাহজাহান চৌধুরী। রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস ‘মধুমতী’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ, ইলোরা গহর, লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার চৈতী, শহিদুল আলম সাচ্চু, সাবেরী আলমসহ আরো অনেকে। ষাটের দশকে বাংলাদেশের তাঁতশিল্পে ক্রান্তিকাল চলছিল। যন্ত্রচালিত বস্ত্র কারখানার কাছে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে বসেছিল হস্তচালিত তাঁত। এ সময় তাঁতি সম্প্রদায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া দুই যুবক-যুবতী আনোয়ার (রিয়াজ) ও মিনারা (চৈতী) গ্রামে ফিরে তাঁতিদের সহযোগিতায় মনোযোগ দেয়। মিনারা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে আনোয়ার প্রতিষ্ঠা করে সমবায় সমিতি। আর তাঁতিরা স্বপ্ন দেখে নতুন করে বাঁচার।

পদ্মা মেঘনা যমুনা
পদ্মা মেঘনা যমুনা ১৯৯১ সালের ছবি। পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের কাহিনী এবং জালালউদ্দিন রুমীর চিত্রনাট্য ও সংলাপে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, ফারুক, চম্পা, বুলবুল আহমেদ, এ টি এম শামসুজ্জামান প্রমুখ। ১৯৯১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ সর্বাধিক ছয়টি পুরস্কার অর্জন করে। নদীর তীরবর্তী মানুষদের প্রেম, সংঘাত নিয়ে ছবির গল্প গড়ে উঠেছে।

কিত্তনখোলা
আবু সাইয়ীদের প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘কিত্তনখোলা’। এটি ২০০০ সালের ছবি। সেলিম আল দীনের নাটক অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি প্রশংসিত হয়। এতে অভিনয় করেছেন পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাইসুল ইসলাম আসাদ, তমালিকা কর্মকার, আজাদ আবুল কালাম প্রমুখ। কিত্তনখোলা নদীর তীরে বসে বাৎসরিক মেলা। সেই মেলার মানুষদের বিচিত্র জীবনের সঙ্গে কোথাও কি মিল আছে নদীর? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আবু সাইয়ীদ। ২০০০ সালের অনেকগুলো জাতীয় পুরস্কার পায় ‘কিত্তনখোলা’। যার মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ ছবি, কাহিনী, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা ইত্যাদি।