ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

আগের সংবাদ

সাভারে দুই ট্রাকের মাঝখানে চাপা পড়ে দুই ট্রাকচালক নিহত

পরের সংবাদ

লোক মনে করে আমাদের তারকাদের পশ্চিমে গিয়ে কাজ করা অসম্ভব

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৩১, ২০১৭ , ১:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৭, ২:০৯ অপরাহ্ণ

বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে ইরফান খানের অবস্থান এখন পৌঁছেছে অন্য মাত্রায়। আন্তর্জাতিক ছবি করছেন। করছেন আঞ্চলিক ছবিও। তার সাম্প্রতিক সাক্ষাতকার পাঠকদের জন্য অনুবাদ করলেন বিভাস হালদার

আপনার শেষ ছবি ‘হিন্দি মিডিয়াম’ হালকা চালের ছবি বলেই ভালো চলেছে। যদিও সামাজিকভাবে খুব প্রাসঙ্গিক ছিল ‘হিন্দি মিডিয়াম’। কমেডি ছবি করতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

নানাভাবে গল্প বলা যেতে পারে। আপনাকে বিনোদিত করতে হবে প্রথমেই। এ কারণেই ছবি দেখতে আপনি এত টাকা ব্যয় করেন। তাই বিনোদনের জায়গাটা নিশ্চিত থাকতে হবে। যে ছবির কমেডি ছাড়া আর কোনো লেয়ার থাকে না, আমি সেটা করলে একঘেয়েমিতে ভুগি। কমেডি গল্প বলার একটা ধরন। এটা বেশ কার্যকরী। আমার ক্ষেত্রে কমেডি ছাড়াও আরো কিছু লেয়ার চাই। আমি দেখার চেষ্টা করি আমার ছবিতে লোকে কী ম্যাসেজ পেল।

আপনার ছবিগুলোতে বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যখন আপনি জাজবা করছেন, তখনই করছেন তালভার। যখন এক্সপোজ করছেন, তখনই হায়দার করছেন। থ্যাংক ইউ করছেন যখন, তখন লাঞ্চ বক্সও করছেন। আপনি কি সচেতনভাবেই মাঝামাঝি অবস্থায় বিরাজ করেন?

অনেকগুলো বিষয় থাকে। এর মধ্যে পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো একটি। ক্লান্তি থেকে রেহাই পেতে করি। কখনো কখনো পয়সার জন্যও করি। কখনো আবার সংলাপবাজি করার জন্যও করি। কিন্তু সামনে আমি শুধু পয়সার জন্য ছবি করব না। এটা একজন অভিনেতা হিসেবে একঘেয়েমিতে ফেলে দেয়।

এমন কোনো সময় গেছে যখন আর্থিক নিরাপত্তার জন্যই কেবল ছবি করে যেতে হয়েছে?

হ্যাঁ। কিন্তু এখন বুঝছি এটা জিনিসÑ আমার আয়ের ৩০ শতাংই চলে যাচ্ছে সরকারের ঘরে। বাকিটা কোথায় যে যাচ্ছে! আমাকে বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিছুতেই না বলার মতো নয়। তারপর আমি দেখলাম আমার পণ্যের বিজ্ঞাপন সারা দেশজুড়ে। কল্পনায় বিলবোর্ডে নিজেকে দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমার নাম আমার মুখ ওসব পণ্যের পোস্টারে দেখে ভালো লাগে না। তাই আমি ছেড়ে দিয়েছি। জীবনের এ পর্যায়ে এসে আমি নিজের ব্যাপারে ভালো অনুভ‚তি রাখতে চাই। নিজেকে পছন্দ করতে চাই।

এটা ছবি করার বেলায়ও সত্যি যে কোনো শিল্পী সিনেমা করে হাসির পাত্র হতে চাইবেন না। পান মসলার বিজ্ঞাপন না করে হয়তো নিন্দা থেকে বাঁচা যায়।

নিন্দা সমালোচনার সম্ভাবনা তো থেকেই যায়। কিন্তু আমি একসময় খুব লাজুক ছিলাম। একটা পর্যায়ে এই লাজ-শরম বিসর্জন দিতে হয়েছে। এটা একটা বিদ্যার্জনের মতোই। এটা থেকে পালিয়ে বাঁচার উপায় নেই। যখন আপনি দেখবেন আপনার সহকর্মীরা এগিয়ে যাচ্ছে, আপনার কোনো কাজ নেই, সবাই তাদের নিয়ে চর্চায় মেতে আছে, তখন আপনি বুঝবেন আপনি কোথাও নেই। তখনই আপনি ঘুরে দাঁড়াবেন। এভাবেই আপনি শিখবেন।

আপনি অপ্রচলিত পথে হেঁটেছেন। যেসব ছবি করেছেন, চরিত্র করেছেন, সেগুলোও অপ্রচলিত। এই ভয়টা কি পান যে, একসময় এমন সব কাজ নাও মিলতে পারে?

ভয়টা আছে। এটাকে নিয়েই থাকতে হবে। আপনি যদি সামান্য প্রতিভাবানও হন, তবে আপনি সুযোগ পাবেন। এমন পজিশনে গিয়ে আপনাকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও নিরাপত্তার বিষয়ে অতিসচেতন হওয়া উচিত নয়। নিজের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। যে প্রতিভা আপনি লালন করেছেন তাকেও নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। এমন কিছু পরিচালক আছেন যারা চমৎকার ছবি বানান। কিন্তু তারকাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিফল হয়েছেন। নিজেদের ইউএসপির ওপরে নিজেদের বিশেষত্বের ওপরে নির্ভর করতে পারেননি তারা। বড় তারকার জন্য নিজের স্টোরি টেলিংয়ে আপস করাটা তাদের উচিত হয়নি। আর এই প্রফেশনের সঙ্গে অনিশ্চয়তা জড়িয়ে আছে। যদি এটাকে মেনে নিতে না পারেন তবে আপনি ভুল প্রফেশনে আছেন।

দীপিকা এবং ঐশ্বরিয়া পশ্চিমে কাজ করছেন। আপনি আরো আগে থেকেই কাজ করছেন। কিন্তু তাদের প্রজেক্টগুলো নিয়ে যে হাইপ উঠেছে আপনার কাজগুলো তত মনোযোগ কাড়তে পারেনি।

তারা নিজেদের প্রদর্শন করেছেন। তাদের অর্জনও বড়। তারা সেটার যোগ্যও। তাছাড়া তারা এখানকার তারকা। এখানকার লোক মনে করে আমাদের তারকাদের পশ্চিমে গিয়ে কাজ করা অসম্ভব। অসম্ভব ওই ইন্ডাস্ট্রিতে ভেঙেচুরে কিছু করা। তারা পিআর জানেন ভালোভাবে। তারা এর সদ্ব্যবহার করেন। আমি এগুলোতে আনন্দ পেলে আমিও করতাম। আমি এর প্রয়োজন অনুভব করি না। হলিউডে কোনো ব্রেক পেলে যদি আমার জীবন পাল্টে যেত তবে আমি ওই ছবি নিয়েই মাথা ঘামাতাম, নিজেকে নিয়ে নয়। আমার ঢোল লোক বাজালেই খুশি হই আমি। নিজের সম্পর্কে বলতে আমি স্বচ্ছন্দ নই।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে কিছু বলুন।

এখানে কোনো পুরস্কর পেলে আপনার জীবন বদলে যাবে না। এটা একটা সার্টিফিকেট বা ট্রফি আপনার ঘরে এল। আহ যদি এমন কোনো পুরস্কার থাকত যা পেলে বাকি জীবন ওটা বয়ে নিয়ে বেড়ানো যেত! কেউ অস্কার পেয়েছে শুনলে আপনার কান খাড়া হয়ে যায়। যখন ৪ জন মানুষ মনোনীত হন, প্রত্যেকেই যোগ্য, এটা আপনাকে প্রতিযোগিতার কথা বলে। প্রতিযোগিতার মান খুব উন্নত। পুরস্কারও যথেষ্ট ওজন ধরে। এই পুরস্কার ক্যারিয়ারের দৌড় বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে গৌরবের ব্যাপার আছে। এখানকার পুরস্কারগুলোর মতো এটা নয়। দর্শক যখন আমার অভিনয়ের প্রতি সাড়া দেয় ওটা আমাকে পুরস্কারের চেয়ে বেশি টানে। এখানে আমি পুরস্কার পাচ্ছি না বলে কিছু হারাচ্ছি বলে মনে করি না। যখন আমায় পদ্মশ্রী দেয়া হলো, আমার ভালো লেগেছিল। গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া পুরস্কারের মূল্য কী? গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার জন্য সবকিছু করা উচিত।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা