এমসিসিতে সাকিবকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক

আগের সংবাদ

নতুন ফরমেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

পরের সংবাদ

সাভার ট্যানারি শিল্প চালু হবে কখন?

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৩, ২০১৭ , ৬:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৭, ৬:১০ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

হাইকোর্টের রায় ও সরকারের আলটিমেটাম থাকা সত্ত্বেও ট্যানারি শিল্প মালিকরা ট্যানারি স্থানান্তরে উদাসীনতা প্রদর্শন করে আসছে। সরকারের উচিত যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে না পারার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। যেসব ট্যানারি মালিক নিয়ম অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত।

বারবার সুযোগ দেয়ার পরও হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভার শিল্পনগরীতে স্থানান্তর হচ্ছে ধীরগতিতে। বেশ কয়েকবার উকিল নোটিশ, আদালতের নির্দেশ, মন্ত্রীদের তর্জন-গর্জন যেন কাজে আসছেনা। স্থানান্তরে কালক্ষেপণের কারণ হিসেবে ট্যানারি মালিকদের অনীহা স্পষ্ট বলে গণমাধ্যমে বারবার আলোচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাভারে যেসব ট্যানারি কারখানা স্থানান্তর হয়েছে তারা পরিবেশ দূষণ করছে বলে অভিযোগ উঠছে। গত বৃহস্পতিবার সাভারের ট্যানারি পল্লীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য সংশোধনাগারসহ (সিইটিপি) অবকাঠামোগত সব নির্মাণকাজ ৪ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে কঠিন বর্জ্য যাতে তরল বর্জ্যরে সঙ্গে মিশ্রিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

২০০১ সালে দেয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানাগুলো সাভারের হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে তিন বছরমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সেই লক্ষ্যে হরিণধরা এলাকায় ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমির ওপর পরিবেশবান্ধব চামড়াশিল্প নগরী নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। তারও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ১৩ বছর আগে। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সাতবার। ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে বাড়তে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। সেখানে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণসহ ১৫৫টি কারখানার জন্য প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। বহুবার সময় দেয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হলেও হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলোর অর্ধেকও এখনো সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে উৎপাদনকাজ শুরু করতে পারেনি।

গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্ধশতাধিক প্লটে কারখানার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। বেশ কিছু প্লটে নামমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। ট্যানারি কারখানাগুলোর তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য চালু হওয়া কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার (সিইটিপি) আংশিক চালু হলেও কঠিন (সলিড) বর্জ্য শোধনের জন্য বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে চামড়াশিল্প নগরীর একটি স্থানে কঠিন বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী জনবসতি এলাকার পরিবেশ দূষণ করছে। অনেক ট্যানারিশিল্প কারখানার তরল বর্জ্য ওভার ফ্লো হয়ে রাস্তাঘাট সয়লাব হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে ওভার ফ্লোর পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে এলাকার অবস্থা ভয়াবহ রূপ নেয়। হাজারীবাগে থাকাকালে বুড়িগঙ্গায় ফেলা হতো ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য, এখন সাভার ট্যানারিশিল্প নগরীর বিষাক্ত তরল বর্জ্য মাঝে মাঝে ধলেশ্বরী নদীতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধসহ অন্যান্য কিছু সমস্যাও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিসিক ও ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠনের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ট্যানারি মালিকদের ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের কথা ছিল। পরে আরো দুই দফা সময় বাড়িয়ে ট্যানারি স্থানান্তরের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়। এরপর আবারো সময় বাড়ানো হয়। এভাবে এই দীর্ঘ সময়ে ট্যানারি সরাতে কারখানা মালিকদের তাগিদ দেয়া হয়েছে অন্তত ২০ বার। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্যানারি মালিকদের বরাবরই অনীহা লক্ষণীয়। তারা নানা অজুহাতে সাভারে নতুন কারখানা নির্মাণকাজে বিলম্ব করছেন। হাইকোর্টের রায় ও সরকারের আলটিমেটাম থাকা সত্ত্বেও ট্যানারি শিল্প মালিকরা ট্যানারি স্থানান্তরে উদাসীনতা প্রদর্শন করে আসছে। সরকারের উচিত যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে না পারার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। যেসব ট্যানারি মালিক নিয়ম অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত। আমরা আশা করছি, সরকারের নিয়ম মেনে মালিকরা সাভার ট্যানারিতে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। এ ব্যাপারে আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।