তিন পার্বত্য জেলা অন্ধকারে

আগের সংবাদ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসায় ইউএনডিপির সহকারী প্রশাসক

পরের সংবাদ

কলকারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৭ , ৯:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৭, ৯:১১ অপরাহ্ণ

ভবিষ্যতে এ জাতীয় ক্ষতির আশঙ্কা রোধের জন্য সমীচীন হবে যান্ত্রিক অনুষঙ্গের নিয়মিত তদারকি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। আমরা চাই, ইস্পাত কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতির দায় কার সেটি শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং অগ্নিদগ্ধরা যেন সুস্থ হওয়া পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভ‚মিকা রাখতে হবে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি ইস্পাত কারখানার তরল লোহার ট্যাংক বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। গত মঙ্গলবার ভোরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগেও একই জেলার আনোয়ারার ডিএপি সার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন করে ইস্পাত কারখানায় সংঘটিত দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের শিল্পজোন এলাকায় শ্রমিকদের মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিবে এটাই স্বাভাবিক।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড শিল্পজোনে বিশেষ করে শিপ ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন রি-রোলিং কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছে। সেগুলোতে শ্রমিকদের কোনো ধরনের কাজের নিরাপত্তা না থাকায় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সোমবার জিপিএইচ রি-রোলিং কারখানায় লোহা গলানোর চুল্লির ট্যাংক বিস্ফোরণে দগ্ধ হলো ১১ শ্রমিক। জানা গেছে, ওই ইউনিটে ১৮ থেকে ২০ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের সবাই আগুনে ঝলসে গেছে। এদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে নেয়া হলেও বাকিদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। আমাদের দেশে শিল্পখাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা আধুনিক তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে।

সীতাকুণ্ড শিল্পজোনে বারবার কথিত দুর্ঘটনা ও শ্রমিক হতাহতের প্রেক্ষাপটে সেখানকার কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ না থাকার বিষয়টি প্রায়ই গণমাধ্যমের খবর হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের ওপর মালিকপক্ষের অমানবিকতার খবরও পাওয়া গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, কলকারখানায় নিরাপত্তার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক সচেতনতার উদাহরণ খুব বেশি একটা দেখা যায় না। ট্যাংক বিস্ফোরণকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে মালিক পক্ষ। অতীতে মালিকদের এই ধরনের আচরণ আমরা দেখেছি। ভবিষ্যতে এ জাতীয় ক্ষতির আশঙ্কা রোধের জন্য সমীচীন হবে যান্ত্রিক অনুষঙ্গের নিয়মিত তদারকি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। আমরা চাই, ইস্পাত কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতির দায় কার সেটি শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং অগ্নিদগ্ধরা যেন সুস্থ হওয়া পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভ‚মিকা রাখতে হবে।

দেশে শিল্পসহ কলকারখানা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে কর্মস্থলে নিরাপত্তার বিষয়টিও তত বেশি করে সামনে আসছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ড, বয়লার বিস্ফোরণ কিংবা নির্মীয়মাণ স্থাপনা থেকে ভারী কিছু পড়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। পুরন ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কিংবা রাসায়নিকের গুদামে বিস্ফোরণ ইতোপূর্বে কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ। প্রায়ই ঘটছে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা। এ ধরনের প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়। প্রণীত হয় দীর্ঘ সুপারিশমালা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নানা আশ্বাসবাণীও শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। কলকারখানার পরিদর্শক কিংবা নির্মাণকাজের তত্ত¡াবধায়করা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমে আসার কথা। অপরপক্ষে যাদের জন্য নিরাপত্তা তারা নিজেরা এ ব্যাপারে কতটা সচেতন এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

উপযুক্ত অবকাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে। কর্মস্থলে কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অবশ্যই সবার উপরে বিবেচনা করতে হবে। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাদের অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের সচেতন হতে হবে।