রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইংল্যান্ড

আগের সংবাদ

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সহায়তায় মাইক্রোসফটের প্রতিশ্রুতি

পরের সংবাদ

নির্বাচনকালীন সরকার ও সেনা মোতায়েনের সুপারিশ তরীকত ফেডারেশন

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৪, ২০১৭ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৭, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

এন রায় রাজা ( নির্বাচন ভবন থেকে) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদের সব দল নিয়ে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং তফসিল ঘোষনার সাথে সাথে নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখা এবং জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইসির তত্বাবধানে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার সুপারিশ করেছে মহাজোটের শরিক এ দলটি।

বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে এসব পরামর্শ দেয় দলটি। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির নেতৃত্বে দলের মহাসচিব এম এ আউয়ালসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সংলাপে অংশ নেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী সংলাপ চলে।

সংলাপ শেষে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না, সেকারণে সংসদে যেসব দল আছে তাদের প্রতিনিধিত্বে একটি নিরপেক্ষ বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। সেই সাথে নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েনের দাবিও করেছি। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা এসে অবস্থান করছে। সেই সাথে আসছে আকসার জঙ্গী বাহিনীও। তাদের হাতে অস্ত্র, রয়েছে। এরা আমাদের জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে মিলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এক অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। সেকারণে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক হতে বলেছি এবং স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করে যাতে কোন ধরনের অশান্তি না ঘটে এবং জণগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় তা দেখার আহ্বান জানিয়েছি। সেই সাথে দেশের যেসকল ব্যক্তি ও দল স্বাধীনতা ও সংবিধান পরিপন্থি কাজে লিপ্ত তারা যাতে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে না পারে সে জন্য আইনী সংশোধন করারও সুপারিশসহ ১২টি প্রস্তাবণা দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে সেনা বাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার প্রস্তাব করেছি।

তরিকত ফেডারেশনের অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা, ভোটগ্রহণে ইভিএম পদ্ধতি চালু, রোহিঙ্গারা যেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না হতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মতাদর্শিক দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, তফসিল ঘোষণার ৬০ দিন আগে ভোটার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ইত্যাদি।

আজ বিকেল ৩ টেয় বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সংলাপের কথা থাকলেও দলের চেয়ারম্যানের মা অসুস্থ থাকায় তারা সংলাপে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ইসিকে। পরবর্তীতে সময় দেওয়ার জন্যও বলেছে দলটি।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মই), বিকেল ৩টায় জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন।
এ নিয়ে মোট ২১ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করলো ইসি।